মঙ্গলবার ১৭ মে, ২০২২ | ৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯

৩ বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি কুলাউড়া ছাত্রলীগ

স্টাফ রিপোর্টার,সংবাদমেইল২৪.কম | বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ | প্রিন্ট  

৩ বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি কুলাউড়া ছাত্রলীগ

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কুলাউড়া উপজেলা শাখা প্রায় ৩ বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি এখনো চুড়ান্ত করতে পারেনি। উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সায়হাম রুমেল নতুন কমিটি জেলায় জমা দেয়ার কথা জানান। তবে বর্তমান কমিটি ব্যর্থ বলে উল্লেখ করে, ছাত্রলীগের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা এই কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি ঘোষণার দাবি জানান। এ নিয়ে ছাত্রলীগ কর্মিদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

জানা যায়, ২০১৭ সালের ১০ জানুয়ারি মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি মো: আসাদুজ্জামান রনি ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রনি স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে নিয়াজুল তায়েফকে সভাপতি ও আবু সায়হাম রুমেলকে সাধারণ সম্পাদক করে ৯ সদস্য বিশিষ্ট এক বছর মেয়াদী একটি কমিটি অনুমোদন দেন।


এরমধ্যে কমিটির একজন সহ-সভাপতি নারী কেলেঙ্কারীর ঘটনায় সংগঠন থেকে বহিস্কার ও আরেকজন সহ-সভাপতি ইতিমধ্যে বিয়ে করেছেন।

এছাড়াও হাবিবুর রহমান জনিকে সভাপতি ও ইমন আহমদকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬ সদস্যের পৌর কমিটি এবং কুলাউড়া ডিগ্রি কলেজ শাখায় জাকারিয়া আল জেবুকে সভাপতি ও আনোয়ার বখ্সকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়।


এদিকে চলতি বছরের ৭ জুলাই মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্ব পান বর্তমান সভাপতি আমীরুল হোসেন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম। দায়িত্ব গ্রহণের পর তাদের স্বাক্ষরিত পত্রে নির্দেশনা দেয়া হয় ১৫ দিনের মধ্যে কুলাউড়া উপজেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি পেশ করার জন্য। কিন্তু জেলা ছাত্রলীগের নির্দেশনার ৫ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারেনি তায়েফ-রুমেল নেতৃত্বাধীন কুলাউড়া ছাত্রলীগের কমিটি।

এর মধ্যে কয়েক দফা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার কথা শোনা গেলেও পরে আর তা বাস্তবায়িত হয়নি। কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় পদ-পদবিহীন তৃণমূলের কর্মীরা হতাশায় ভুগছেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তারা ব্যর্থতার জন্য শীর্ষ দুই নেতাকেই দায়ী করছেন। তারা ব্যর্থ নেতাদের নেতৃত্ব চান না। চান নতুন ও উদ্যোমি নতুন কমিটি। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ পেতে শুরুতে কর্মীরা অনেক দৌড়ঝাঁপ ও তদবির শুরু করলেও তা এখন ঝিমিয়ে পড়েছে।


মুলত উপজেলা আওয়ামী লীগের গ্রুপিং কোন্দলের প্রভাব পড়েছে ছাত্রলীগেও। ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মুল দলের দুই বড় ভাইয়ের আস্তাভাজন হিসেবে পরিচিত। বড় ভাইদের মধ্যে দা কুমড়া সম্পর্ক থাকায় সেই প্রভাব পড়েছে ছাত্রলীগে। তাই প্রায় ৩ বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখনো পুর্নাঙ্গ কমিটি গঠনে দেখেনি আলোর মুখ।

পৌর ছাত্রলীগ সভাপতি হাবিবুর রহমান জনি জানান, জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশ মত ৮১ সদস্য বিশিষ্ট পৌর ছাত্রলীগের পুর্নাঙ্গ কমিটি জমা দিয়েছি। কিন্তু এখনও কোন অনুমোদন পাইনি।

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিয়াজুল তায়েফ ও সাধারণ সম্পাদক আবু সায়হাম রুমেল জানান, আমরা দুজন মিলে পুর্নাঙ্গ কমিটি জেলায় জমা দিয়েছি। আশা করছি শ্রীঘ্রই জেলা থেকে পুর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।

এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আমীরুল হোসেন চৌধুরী জানান,পৃথক দুটি কমিটি জমা হয়েছে। কুলাউড়া ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদককে সম্বন্বয় করে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা জেলায় প্রেরণের নির্দেশনা দিয়েছি। উভয়ের দেয়া তালিকা থেকে শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।

Facebook Comments Box

Comments

comments

advertisement

Posted ৬:৪৭ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯

সংবাদমেইল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. মানজুরুল হক

নির্বাহী সম্পাদক: মো. নাজমুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক : শরিফ আহমেদ

কার্যালয়
উপজেলা রোড, কুলাউড়া, মেলভীবাজার।
মোবাইল: ০১৭১৩৮০৫৭১৯
ই-মেইল: sangbadmail2021@gmail.com

sangbadmail@2016 কপিরাইটের সকল স্বত্ব সংরক্ষিত