বুধবার ৮ ডিসেম্বর, ২০২১ | ২৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮

হারের বৃত্ত থেকে বের হতে পারলো না বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক | শুক্রবার, ১৯ নভেম্বর ২০২১ | প্রিন্ট  

হারের বৃত্ত থেকে বের হতে পারলো না বাংলাদেশ

সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে লজ্জাজনক পারফর্ম করে দেশের মাটিত প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচও হেরে গেল বাংলাদেশ। আজ (শুক্রবার) টি-২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ৪ উইকেটে হেরেছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। ২২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হাসান আলী। দাপুটে বোলিংয়ে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করে রেখেছিল বাংলাদেশ দল। শেষ ৩ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩২ রান। ক্রিজে নতুন দুই ব্যাটসম্যান শাদাব খান এবং মোহাম্মদ নেওয়াজ। এ ম্যাচে শেষ দিকে এসে খেই হারাল স্বাগতিকরা। আর কোন উইকেট না হারিয়ে ৪ বল হাতে রেখেই ৪ উইকেটের জয় পাকিস্তানের।

মিরপুর মানেই যেন একচেটিয়া দাপট বাংলাদেশের। পাকিস্তানের বিপক্ষে আজ (শুক্রবার) মাঠে নামার আগে শের-ই-বাংলায় খেলা সবশেষ ১২ টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ৯টিতেই জয় টাইগারদের। বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে জয়ের পাশাপাশি ১০ ম্যাচে ৭ জয়। ভরপুর আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিশ্ব মঞ্চে যায় অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। তবে বিশ্বকাপে একেবারেই সুবিধা করতে পারেনি। সুপার টুয়েলভ পর্বে পাঁচ ম্যাচে পাঁচটিতেই হার।
বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর দেশে ফিরে পাকিস্তানের মুখোমুখি টাইগাররা। চিরচেনা মিরপুরে ফিরে ‘আহত’ বাঘ হয়ে উঠল রীতিমত খ্যাপাটে। মিরপুরে ৩ ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে মাত্র ১২৮ রানে পুঁজি নিয়েও পাকিস্তানকে প্রায় আটক দিয়েছিল। তবে শেষ রক্ষা হলো না। শাদাব-নেওয়াজের সাহসী ব্যাটিংয়ে ম্যাচ হার‍তে হলো ৪ উইকেটের ব্যবধানে।
ম্যাচ ছাপিয়ে আলোচনায় অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের অধিনায়কত্ব। ২০ ওভারের ম্যাচে ম্যাচটিই যখন হাত ছাড়া, ৬ বলে লাগে ২ রান, তখন ইনিংসের শেষ ওভারে আমিনুল ইসলাম বিপ্লবকে প্রথমবার বোলিংয়ে আনেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ।
এদিন ম্যাচে আগে ব্যাট করে সফরকারী পাকিস্তানকে ১২৮ রানের লক্ষ্য দেয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। টার্গেট টপকাতে নেমে বাবর আজম-মোহাম্মদ রিজওয়ানের মতো দুই বিশ্বমানের ব্যাটসম্যানকে শুরুতেই হারিয়ে বসে পাকিস্তান। আর তাতেই যেনো ম্যাচের মোমেন্টাম নিজেদের দিকে নিয়ে নেয় বাংলাদেশ। ১১ রানে ব্যাট করা রিজওয়ানকে কিছুটা ভেতরে ঢোকা দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন মুস্তাফিজুর রহমান। বাবরকে ৭ রানে বোল্ড করেন তাসকিন।
এরপর হায়দার আলীকে শূন্য রানে ফেরান শেখ মেহেদী, শোয়েব মালিকেরও একই পরিণত। মালিককে ফেরাতে পুরো কৃতিত্ব পাবেন সোহান। দুর্দান্ত এক থ্রোতে রান আউট করেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যানকে। বাংলাদেশ দল যেখানে পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেট হারিয়ে তুলেছিল ২৫ রান, সেখানে টাইগার বোলারদের দাপুটে পারফরম্যান্সে ৪ উইকেট হারিয়ে মোটে ২৪ রান তুলতে পারে পাকিস্তান।
পরে সময়ের সাথে সাথে সে চাপ কমাতে থাকেন ফখর জামান ও খুশদিল শাহ। শেষ ৬ ওভারে জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন পড়ে ৫২ রান। কিন্তু তাসকিনের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে অফ ড্রাইভ করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ফখর। ফেরেন ৩৬ বলে ৩৪ রান করে। এতে পঞ্চম উইকেটে ভাঙে ৫৬ রানের জুটি।
খুশদিলকে আর বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি শরিফুল। সতীর্থ ফখরের পথে হেঁটে ৩৪ রানে সাজঘরে ফেরেন এই ব্যাটসম্যান। পরে ৩ ওভারে ৩২ রান প্রয়োজন পড়লে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ভীতি ছড়ান শাদাব খান। সেটিই কাল হয় শেষপর্যন্ত ১০ বলে শাদাবের অপরাজিত ২১ ও নেওয়াজের ৮ বলে ১৮ রানের অনবদ্য ইনিংসে ৪ উইকেট ও ৪ বল হাতে রেখে ৩ ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিতে নেয় পাকিস্তান।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ দল। তবে শুরুটা ভালো হয়নি তাদের। উদ্বোধনী জুটি ভাঙে দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই। পেসার হাসান আলীর বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে নাঈম শেখ ফেরেন ১ রান করে। বেশ চমক জাগিয়ে টি-টোয়েন্টি অভিষেক হওয়া সাইফ হাসানও সতীর্থকে অনুসরণ করে একই পথ ধরেন সমান ১ রানেই। মোহাম্মদ ওয়াসিমের অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের কিছুটা সুইং করা বলে ক্যাচ দেন স্লিপে। ১০ রানেই নেই ২ উইকেট।
দীর্ঘদিন পর টি-টোয়েন্টি দলে ফেরা নাজমুল হোসেন শান্ত তৃতীয় দফা টি-টোয়েন্টি দলে ডাক পেয়ে আজ থেমেছেন মাত্র ৭ রানে, খেলেন ১৪ বল। ওয়াসিমের দ্বিতীয় শিকার হন শর্ট বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে। সম্প্রতি ব্যাটিং দৈন্যতার বৃত্তে আটকে যাওয়া বাংলাদেশ দল এ ম্যাচে পাওয়ার-প্লের ৬ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে তোলে মাত্র ২৫ রান।
আশা দেখিয়ে আরেক দফা হতাশ করলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। মোহাম্মদ নেওয়াজের হালকা টার্ন করা বল বেরিয়ে যাওয়ার আগে স্টাম্প ছুয়ে যায়। মাহমুদউল্লাহ ফেরেন ১১ বলে ৬ রানে। সতীর্থরা যেখানে টেস্ট মেজাজে ব্যাটিং করে সাজঘরের পথে, সেখানে কিছুটা আগ্রাসী ভূমিকায় দেখা যায় আফিফকে। শুরু থেকে বলের মেধা বিচার করে নিজের শক্তির জায়গা কাজে লাগান এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
ইনিংসের ১১তম ওভারে মোহাম্মদ নেওয়াজকে হাঁকান টানা ২ ছক্কা। যদিও ইনিংসটাকে বেশি বড় করতে পারেননি তিনি। পরে ফেরেন ইনিংস সর্বোচ্চ ৩৬ রান করে। যেখানে ওই ২টি ছয়ের সঙ্গে ২টি চারের মার আসে তার ব্যাট থেকে। আফিফের আউটের পর ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ৩৫ রান যোগ করেন নুরুল হাসান সোহান ও শেখ মেহেদী হাসান। হাসান আলীর দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হওয়ার আগে ২২ বলে ২৮ রান করেন সোহান।
শেষদিকে শেখ মেহেদী হাসানের ২০ বলে অপরাজিত ৩০ রানের কল্যাণে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ১২৭ রানের পুঁজি পেয়েছে বাংলাদেশ দল। স্বাগতিকদের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৬ রানের ইনিংস খেলেন আফিফ হোসেন। শেখে মেহেদীর ব্যাট থেকে আসে ৩০ রান। নুরুল হাসান সোহান খেলেন ২৮ রানের ইনিংস। পাকিস্তানের হয়ে হাসান আলী নেন সর্বোচ্চ ৩ উইকেট।


Facebook Comments Box


Comments

comments

advertisement

Posted ১০:০৬ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১৯ নভেম্বর ২০২১

সংবাদমেইল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. মানজুরুল হক

নির্বাহী সম্পাদক: মো. নাজমুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক : শরিফ আহমেদ

কার্যালয়
উপজেলা রোড, কুলাউড়া, মেলভীবাজার।
মোবাইল: ০১৭১৩৮০৫৭১৯
ই-মেইল: sangbadmail2021@gmail.com

sangbadmail@2016 কপিরাইটের সকল স্বত্ব সংরক্ষিত