রবিবার ৩ জুলাই, ২০২২ | ১৯ আষাঢ়, ১৪২৯

হবিগঞ্জে জেলা পরিষদ নির্বাচনে আ’লীগের ৩ জনসহ ৪ নেতাকে নিয়ে আলোচনা চলছে

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি,সংবাদমেইল২৪.কম | বুধবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৬ | প্রিন্ট  

হবিগঞ্জে জেলা পরিষদ নির্বাচনে আ’লীগের ৩ জনসহ ৪ নেতাকে নিয়ে আলোচনা চলছে

আসন্ন জেলা পরিষদ জেলা পরিষদ নির্বাচনে  হবিগঞ্জে  চার নেতাকে নিয়ে আলোচনা চলছে। যদিও এদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সক্রিয় কেবল একজন। এদের তিন জন আওয়ামী লীগের এবং একজন জাতীয় পার্টি নেতা।

এরা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মুশফিক হুসেন চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, মাধবপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক জাকির হোসেন চৌধুরী অসীম এবং জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা আতিকুর রহমান আতিক।


তবে এদের মধ্যে এখন পর্যন্ত একমাত্র সক্রিয় প্রার্থী জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক মুশফিক হোসেন চৌধুরী। তিনি হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের গত কমিটির সভাপতি ছিলেন।

সবার দৃষ্টিই এখন কে পাচ্ছেন আওয়ামী লীগের দলীয় সমর্থন। যদিও মুশফিকই সমর্থন পাচ্ছেন বলে প্রচার চালাচ্ছেন মুশফিকের সমর্থকরা।


১৪ বছর ধরে হবিগঞ্জ জেলা বিএমএ ও স্বাচিপের সভাপতির দায়িত্বও পালন করে যাচ্ছেন। তিনি ইতিপূর্বে ওসমানী মেডিকেল কলেজের ভিপি ও সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

ক্ষমতাসীন দলের অন্য দুই নেতার নাম আলোচনায় আসলেও তাদের কোনো তৎপরতা চোখে পড়ে না।


মুশফিক হোসেন চৌধুরী সংবাদমেইলকে বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে সততার সাথে প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করে আসছি। ইতিমধ্যে বর্তমান সরকারের দেয়া বরাদ্দ দিয়ে জেলা পরিষদের মাধ্যমে ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যাকে সমর্থন দেবেন তার পক্ষেই আমরা কাজ করব। তবে আমি দলীয় সমর্থন পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশা রাখি।’

আরেক আগ্রহী নেতা জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান সংবাদমেইলকে বলেন, ‘স্থানীয় নেতাকর্মীরা আমাকে জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য দাবি জানাচ্ছেন। তবে দলীয় প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আমাকে নির্বাচন করার অনুমতি দিলে আমি অংশ নেবো।’

এর মধ্যে মাঝে মাঝেই অস্তিত্বের জানান দিচ্ছেন জামায়াত নেতা এনামুল হক মোশাহিদ। তিনি কার্ড ছাপিয়ে বিতরণও করছেন। তবে তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না তা নিয়ে রয়েছে সন্দেহে। কারণ এই নির্বাচনে জনপ্রতিনিধিরা ভোটার এবং এই জেলায় বিএনপি ও জামায়াতপন্থি জনপ্রনিধির সংখ্যা একেবারেই নগন্য।

নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন সম্ভাব্য সদস্য প্রার্থীরাও। তবে প্রচারণায় চেয়ারম্যানের তুলনায় সদস্য প্রার্থীরা অনেক বেশি সক্রিয়। তারা লিফলেট, কার্ড বিতরণও করছেন। ঘনিষ্টজনদের নিকট দোয়া, সহযোগিতা চাইছেন। কিন্তু বেশির ভাগ প্রার্থীই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

আসন বিন্যাস নিয়ে বিভ্রান্তি

এ নির্বাচন উপলক্ষে পুরো জেলাকে ১৫টি সাধারণ ও পাঁচটি সংরক্ষিত আসনে ভাগ করা হয়েছে। আসন বিন্যাস করতে গিয়ে একটি উপজেলার সাথে অপর উপজেলার ইউনিয়নকে সংযুক্ত করা হয়েছে। এতে সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্যসহ ভোটারদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তিও দেখা দিয়েছে।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জ-১ আসনে রাখা হয়েছে আজমিরীগঞ্জ পৌরসভাসহ এ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন এবং বানিয়াচং উপজেলার ৫নং দৌলতপুর ইউনিয়ন। হবিগঞ্জ-২ আসনে বানিয়াচং উপজেলা সদরের ১, ২, ৩ ও ৪ নং ইউনিয়ন এবং ৬, ৭ ও ৮ নং ইউনিয়ন। হবিগঞ্জ-৩ আসনে একই উপজেলার ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪ ও ১৫ নং ইউনিয়ন। হবিগঞ্জ-৪ আসনে নবীগঞ্জ উপজেলার ১, ২, ৩, ৪ ও ৫ নং ইউনিয়ন। হবিগঞ্জ-৫ আসনে নবীগঞ্জ পৌরসভার সাথে রাখা হয়েছে ৬, ৭, ৮ ও ৯ নং ইউনিয়ন। হবিগঞ্জ-৬ আসনে একই উপজেলার ১০, ১১, ১২, ১৩ নং ইউনিয়ন এবং বাহুবল উপজেলার ১ নং ইউনিয়ন। হবিগঞ্জ-৭ আসনে বাহুবল উপজেলার ২, ৩, ৪, ৫ ও ৭ নং ইউনিয়ন। হবিগঞ্জ-৮ আসনে আছে হবিগঞ্জ পৌরসভাসহ সদর উপজেলার ৩, ৪, ৫ ও ১০ নং ইউনিয়ন। হবিগঞ্জ-৯ আসনে সদর উপজেলার ১, ২, ৬, ৯ ও লাখাই উপজেলার ৫নং ইউনিয়ন। হবিগঞ্জ-১০ আসনে সদর উপজেলার শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভাসহ ৭ ও ৮নং ইউনিয়ন এবং বাহুবল উপজেলার ৬নং ও চুনারুঘাট উপজেলার ৭নং ইউনিয়ন রাখা হয়েছে। হবিগঞ্জ-১১ আসনে লাখাই উপজেলার ১, ২, ৩, ৪ ও ৬নং ইউনিয়ন। হবিগঞ্জ-১২ আসনে চুনারুঘাট উপজেলার ১, ২, ৩, ৪ ও ১০ নং ইউনিয়ন। হবিগঞ্জ-১৩ আসনে চুনারুঘাট পৌরসভাসহ এ উপজেলার ৫, ৬, ৮ ও ৯ নং ইউনিয়ন। হবিগঞ্জ-১৪ আসনে রাখা হয়েছে মাধবপুর উপজেলার ৬, ৭, ৮, ৯, ১০ ও ১১ নং ইউনিয়ন। হবিগঞ্জ-১৫ আসনে রয়েছে মাধবপুর পৌরসভাসহ এ উপজেলার ১, ২, ৩, ৪ ও ৫ নং ইউনিয়ন।

আর সংরক্ষিত আসন করা হয়েছে হবিগঞ্জ-১, ২ ও ৩ নিয়ে হবিগঞ্জ সংরক্ষিত-১, হবিগঞ্জ-৪, ৫ ও ৬ নিয়ে হবিগঞ্জ সংরক্ষিত-২, হবিগঞ্জ-৭, ৮ ও ১০ নিয়ে হবিগঞ্জ সংরক্ষিত-৩, হবিগঞ্জ-৯, ১১ ও ১২ নিয়ে হবিগঞ্জ সংরক্ষিত-৪ এবং হবিগঞ্জ-১৩, ১৪ ও ১৫ নিয়ে হবিগঞ্জ সংরক্ষিত-৫ আসন গঠন করা হয়েছে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর সীমানা নির্ধারণ করেছেন সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সাবিনা আলম। এদিকে এ সীমানা নির্ধারণ নিয়ে প্রার্থী এবং ভোটারদের মাঝে স্পষ্ট কোন ধারণা তৈরি হয়নি। অধিকাংশরাই জানেন না কোন আসনের সীমানা কতটুকু।

এ বিষয়ে আজমিরীগঞ্জের সাধারণ সদস্য পদপ্রার্থী প্রসেনজিৎ জানান, তিনি হবিগঞ্জ-১ আসনের সাধারণ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মাঠে প্রচার শুরু করেছেন। কিন্তু স্পষ্ট করে বলতে পারেন না তার আসনে কোন কোন ইউনিয়ন রাখা হয়েছে। আবার পৌরসভার জনপ্রতিনিধিরা কি তার ভোটার কিনা তা নিয়েও তার মাঝে বিভ্রান্তি রয়েছে। কারণ তারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না। আর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়া কেউ জেলা পরিষদের ভোটার হতে পারবেন না।

জেলায় মোট ভোটার রয়েছেন এক হাজার ১০৩টি। এর মাঝে ৭৭টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য, ছয়টি পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর এবং আটটি উপজেলার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানরা এ নির্বাচনের ভোটার হিসেবে গণ্য হবেন।

সংবাদমেইল২৪.কম/পি কে/নাশ

Facebook Comments Box

Comments

comments

advertisement

Posted ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৬

সংবাদমেইল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. মানজুরুল হক

নির্বাহী সম্পাদক: মো. নাজমুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক : শরিফ আহমেদ

কার্যালয়
উপজেলা রোড, কুলাউড়া, মেলভীবাজার।
মোবাইল: ০১৭১৩৮০৫৭১৯
ই-মেইল: sangbadmail2021@gmail.com

sangbadmail@2016 কপিরাইটের সকল স্বত্ব সংরক্ষিত