সোমবার ২৯ নভেম্বর, ২০২১ | ১৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮

বীমা শিল্পে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ (মরণোত্তর) সম্মাননা পেলেন এম এ সামাদ

স্টাফ রিপোর্টার,সংবাদমেইল২৪.কম | বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২০ | প্রিন্ট  

বীমা শিল্পে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ (মরণোত্তর) সম্মাননা পেলেন এম এ সামাদ

১ম জাতীয় বীমা দিবস উপলক্ষে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কতৃপক্ষের উদ্যোগে বীমা শিল্পে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ (মরনোত্তর) সম্মাননা স্মারক পেলেন দেশ তথা সিলেট অঞ্চলের কুলাউড়া সূর্যসন্তান এম এ সামাদ। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে গত ১ মার্চ ২০২০ইং তারিখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে এ সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করা হয়।

বীমা জগতের সিংহ পুরুষ এম এ সামাদ- এর সংক্ষিপ্ত জীবনের জলছবি:
ভাষাসৈনিক দেশের সেরা বীমা ব্যক্তিত্ব লেখক ও সংগঠক এম.এ সামাদ ১৯২৩ সালে সিলেট অঞ্চলের মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। সামাদের ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির অভ্যাস ছিল। স্কুলের ছাত্র অবস্থায়ই তিনি স্কুল ম্যাগাজিনের সম্পাদক ছিলেন। তখনকার দিনে কোলকাতা থেকে প্রকাশিত কবি নরেণ দেব সম্পাদিত ‘পাঠশালা’ ও ইংরেজী ‘মডার্ন স্টুডেন্ট’ কাগজে তিনি নিয়মিত লিখতেন। মডার্ন স্টুডেন্টের প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় তিনি ‘প্রথম পুরস্কার’ পেয়েছেন বহুবার।


তিনি উপমহাদেশের সবচাইতে অভিজাত বিদ্যাপীঠ কোলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজ থেকে ১৯৪৫ সালে কৃতিত্বের সাথে বি.এ. অনার্স ডিগ্রী লাভ করেন। কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিসাসে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে স্বর্ণপদক সহ বহু পুরস্কারে ভূষিত হন। এরপর তিনি ‘অল ইন্ডিয়া রেডিও’ নয়াদিল্লীতে সংবাদপাঠ ও অনুবাদকের কাজ করেন। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে এম এ সামাদের সর্ম্পক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। চট্টগ্রাম থাকাকালে তিনি বহুদিন চট্টগ্রাম কৃষ্টিকেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৪৭ সালে সামাদ অল ইন্ডিয়া রেডিও থেকে বদলী হয়ে ঢাকার রেডিও পাক্তিস্তানে বাংলা সংবাদ বিভাগের দায়িত্বে নিযুক্ত হন। ঠিক সেই সময় বাংলা ভাষার উপর উর্দু চাপিয়ে দেওয়ার পাকিস্তানী শাসকবর্গের চক্রান্ত শুরু হয়। এই চক্রান্তের বিরোধিতা করে তিনি ১৯৪৮ সালের ডিসেম্বরে রেডিওর চাকুরিতে ইস্তফা দেন।

১৯৪৯ সালে ‘মিনার’নামে শিশু কিশোদের জন্য একটি প্রগতিশীল মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করেন। ১৯৫১ সালে যখন বীমা জগত যখন অন্ধকারে আচ্ছন্ন তখন তরুন আজিজুস সামাদ এক টুকরো আলো হাতে নিয়ে সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন বীমা ব্যবসায় সামাজিক অসম্মান গুছিয়ে ছিলেন। বীমা যে একটি সম্মানজনক ব্যবসা এই প্রত্যয় দৃঢ় হলো তাঁর অদম্য প্রচেষ্টায়। আজ যে বীমা জগতের সামাজিক মর্যাদা এবং অর্থনৈতিক প্রগতি তার অগ্রপথিক এম এ সামাদ। বীমার উপর এদেশের সর্বাধিক গ্রন্থ লিখেছেন তিনি এবং এই গ্রন্থগুলো তার জন্য বয়ে এনেছে অনেক আন্তর্জাতিক সম্মান। ইউনাইটেড নেশনস এর আষ্কটামের বীমা অভিজ্ঞদের নামের তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে তিনি এ পেশায় সম্মানিত হয়েছেন।


বাংলাদেশের একমাত্র বীমা শিক্ষার ট্রেনিং প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইউনিওরেন্স একাডেমীর তিনিই প্রতিষ্ঠাতা ডিরেক্টর। স্বাধীনতার পর তিনি সুরমা জীবনবীমা কর্পোরেশনের চেযারম্যান নিযুক্ত হন। এরপর তিনি বাংলাদেশ জীবন বীমা কর্পোরেশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর নিযুক্ত হন। ১৯৮৪ সালে তিনি ম্যানেজিং ডিরেক্টরের পদ থেকে অবসর গ্রহন করেন। এর পরপরই ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশের বেসরকারী খাতে প্রথম বীমা প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ জেনারেল ইনসিওরেন্স কোম্পানী’ (বিজিআইসি) প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেই কোম্পানীর ম্যানেজিং ডিরেক্টরের পদে অধিষ্ঠিত হন। এরপর এই কোম্পানীর ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং চেয়ারম্যান উভয় পদে নিযুক্ত হন।

২০০৪ সালে বিজিআইসি’র ম্যানেজিং ডিরেক্টরের পদ হতে অবসর গ্রহন করেন এবং ২০০৫ সালের ১৭ই অক্টোবর তাঁর মৃত্যুর দিন পর্যন্ত বিজিআইসি’র চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। চল্লিশ দশকের শেষের দিকে তাঁর সহধর্মিনী বেগম ফওজিয়া সামাদের সম্পাদনায় তিনি বের করেছিলেন শিশু কিশোরদের জন্য এক ব্যতিক্রমধর্মী কিশোর মাসিক মিনার। বিভিন্ন জেলায় যাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল শিশু কিশোরদের প্রতিষ্ঠান ‘চাঁদেরহাট’। জীবনের সব কর্মধারাকে এই স্রোতে মিলানো এক কঠিন ব্যাপার ছিল। যিনি একজন কৃতি সংগঠকই নন, একজন সার্থক জীবনশিল্পীও।


এম এ সামাদের ১ পুত্র ও ৩ কন্যা সন্তান রয়েছেন। পুত্র তৌহিদ সামাদ ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান বিজিআইসির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। কন্যারা হলেন ফেন্সী সামাদ, শিক্ষাবিদ তমজু সামাদ ও কনিষ্ট কন্যা সাবরিনা সামাদ। তিনি সামাদ ফওজিয়া ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। পিতার পথ অনুসরণ করে সাবরিনা সামাদ সমাজের উন্নয়নে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। তার স্বামী ব্যারিস্টার মইন ফিরোজী লিগ্যাল ফিল্ডের একজন পরিচিত মুখ।

Facebook Comments Box

Comments

comments

advertisement

Posted ৬:৪৬ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২০

সংবাদমেইল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. মানজুরুল হক

নির্বাহী সম্পাদক: মো. নাজমুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক : শরিফ আহমেদ

কার্যালয়
উপজেলা রোড, কুলাউড়া, মেলভীবাজার।
মোবাইল: ০১৭১৩৮০৫৭১৯
ই-মেইল: sangbadmail2021@gmail.com

sangbadmail@2016 কপিরাইটের সকল স্বত্ব সংরক্ষিত