জনদূর্ভোগ

প্রায় ভেঙ্গে যায় সেতু:স্থায়ী মেরামতের উদ্যোগ নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৭ জুলাই ২০২১ | ১০:০৪ অপরাহ্ণ
অ+ অ-

কুলাউড়া-রবিরবাজার সড়কের মধ্যে অবস্থিত ফানাই নদীর উপরে নির্মিত স্টীলের বেইলি সেতুটি প্রায় ভেঙ্গে পড়ে যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটছে। কতৃপক্ষ স্থায়ী মেরামতের কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ার সময় এই রোডে চলাচলকারী হাজার হাজার যানবাহন ও কয়েকটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ দারুন ভোগান্তিতে পড়তে হয়। প্রায় ৩০ বছর আগে স্টীলের এই সেতুটি বিগত এরশাদ সরকারের আমলে নির্মিত হওয়ার পর আজ পর্যন্ত নতুন কোনো পাঁকা সেতু নির্মাণ না হওয়ায় মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ন হয়ে উঠেছে সেতুটি। যার কারনে অধিক মালামাল বোঝাই গাড়ি সেতুর উপর দিয়ে যাতায়াতের সময় পাঠাতন নতুবা এঙ্গেল ভেঙ্গে গিয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ কারনে অনেক সময় মাল বোঝাই গাড়ি নানা দূর্ঘটনার সম্মুখিন হতে হচ্ছে। বিগত কয়েক বছরে একাধিকবার এই সেতুটি ভেঙ্গে পড়লে কতৃপক্ষ সাময়িক জোড়াতালির সংস্কার করে যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দিলেও স্থায়ী পাঁকা কোন সেতু নির্মাণ না হওয়ায় বেইলী সেতুটি কয়েকদিন পর পর ভেঙ্গে গেলে চরম দূর্ভোগের স্বীকার হতে হয় যানবাহন ও চলাচলকারী যাত্রীদের।

চলতি বছরের ১৮ মার্চ সেতুটির ট্র্যানজাম ভেঙ্গে পড়লে এ রোডে দুই দিন যান চলাচল বন্ধ ছিল। এবং সর্বশেষ গত ০২ জুলাই শুক্রবার সিমেন্ট বোঝাই একটি ট্রাক সেতু দিয়ে রবিরবাজার যাওয়ার সময় সেতুর দুটি স্থানে ট্র্যানজাম ভেঙ্গে পড়ে। ভাগ্যক্রমে ওই গাড়িটি সেতু পার হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায়। পরে কতৃপক্ষ সেতুর উভয় পাশে বাঁশ দিয়ে যাতায়াত বন্ধ ঘোষনা করে। এতে কুলাউড়া-রবিরবাজার সড়ক দিয়ে দুই দিন সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকায় টিলাগাঁও, পৃথিমপাশা, কর্মধা ও রাউৎগাঁও ইউনিয়নের আংশিক এলাকার সাথে উপজেলা সদরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে সেতুটি মেরামত করে পুনরায় চালুর ব্যবস্থা করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। নতুন পাঁকা সেতু নির্মাণ না করে পুরাতন এই সেতুটি জোড়া-তালি দিয়ে চলাচলে উপযোগী করে তুলায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় যানবাহন চালক ও বাসিন্দারা। তাঁদের দাবী অভিলম্বে পুরাতন স্টীলের বেইলী এই সেতুটি আর সংস্কার না করে নতুন পাঁকা সেতু দ্রুত নির্মাণের।



স্থানীয় রাউৎগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল জামাল জানান, সেতুটি অনেক পুরাতন ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ভারী যানবাহন চলাচলে প্রায় সময়ই এটির পাটাতনসহ বিভিন্ন জায়গায় ভেঙ্গে যায়। সেতুটি ঘন ঘন বিকল হয়ে পড়ে। যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হয় তাহলে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারেযে কোনো সময়।

কুলাউড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ প্রকৌশলী পার্থ সরকার বলেন, সেতুর ধারণ ক্ষমতা ৩ টন হলেও প্রতিবার ওভার লোডের পণ্যবাহী গাড়ি যাতায়াতের ফলে ব্রিজটির বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে যায়। ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতু অপসারণ করে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

মৌলভীবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহি প্রকৌশলী জিয়া উদ্দিন জানান, ওভারলোডিংয়ের কারণে বারবার সেতুটি ভেঙ্গে পড়ে। আমরাও বারবার মেরামত করছি। সর্বশেস সেতুটি ভাঙ্গার খবর পেয়ে সাথে সাথে আমি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। দ্রুত সময়ে মধ্যে আমরা স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করছি।

Comments

comments

পড়া হয়েছে 105 বার
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
x