
বিশেষ প্রতিনিধি,সংবাদমেইল২৪.কম | মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট ২০১৭ | প্রিন্ট
সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়া রায়ে সংসদ নিয়ে কথা বলার আগে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ করা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সোমবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবসের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সম্প্রতি কিছু মন্তব্য এবং বক্তব্যের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “তিনি আজ সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল চাইছেন। যে রাষ্ট্রপতি তাকে নিয়োগ দিয়েছেন, আজ প্রধান বিচারপতি সেই রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কেড়ে নিতে চাইছেন। তাকে মনে রাখতে হবে, আমাদের একটি সংবিধান আছে। সবচেয়ে লজ্জার ব্যাপার হচ্ছে, উচ্চ আদালতে আজ পাকিস্তানের নাম উচ্চারিত হচ্ছে। যাদের আমরা যুদ্ধ করে হারিয়েছি। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর তুলনা। এটা এদেশের জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।”
তিনি বলেন, “যে জনগণ আমাদের নির্বাচিত করে পার্লামেন্টে পাঠালো। সেই আমরাই তো রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেছি। আবার রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়েছেন। তাহলে আজ প্রধান বিচারপতি কেন বলছেন সংরক্ষিত আসনে নারী সংসদ সদস্য নির্বাচনের কী দরকার! আমার প্রশ্ন হলো, আমরা যদি সংরক্ষিত আসনে নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত না করতে পারি, তাহলে রাষ্ট্রপতিও নির্বাচন করতে পারি না। আর রাষ্ট্রপতি যে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়েছেন, তাহলে সে সম্পর্কে প্রধান বিচারপতি কী বলবেন? তার তো তাহলে আরও আগেই সরে দাঁড়ানো উচিত ছিলো।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “আজ উচ্চ আদালত থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়া হচ্ছে। হুমকি ধামকি দেয়া হচ্ছে। পার্লামেন্ট সদস্যদের ক্রিমিনাল বলা হচ্ছে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, ব্যবসা করা কি অপরাধ? ব্যবসায়ীরা সংসদ সদস্য হলে ক্রিমিনাল কেন বলা হবে?”
প্রধান বিচারপতিকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, “তার নাকি সংবিধানের কিছু কিছু অনুচ্ছেদ পছন্দ না। তার মনে রাখতে হবে, এই সংবিধান বঙ্গবন্ধুর দিয়ে যাওয়া। তার যেগুলো পছন্দ সেগুলো জিয়ার শাসন আমলে প্রচলিত ছিলো। তাকে মনে রাখতে হবে, আমার বাবা শেখ মুজিবুর রহমান দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গিয়েছিলেন বলেই আজ আপনি ওই চেয়ারে বসতে পেরেছেন।”
ষোড়শ সংশোধনী প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা উচ্চ আদালতের রায় ভালোভাবে পরীক্ষা করে দেখছি। এর প্রতিটা জায়গায় ভুল রয়েছে। আমি নোট নিচ্ছি। সংসদে এটা নিয়ে আলোচনা করবো। আমার মনে হয় যে সকল বিজ্ঞ জজ সাহেব এ রায়ে সই করেছেন, তাদের কারও মতামত প্রধান বিচারপতি নেননি। অন্য জজ সাহেবদের ওপর তিনি তার মতামত চাপিয়ে দিয়েছেন।”
আমি জজ জয়নাল আবেদিনে কথা বলবো, যিনি ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার তদন্তের মিথ্যা বানোয়াট রিপোর্ট দিয়েছিলেন। আমরা কি দেখলাম? দুদক যখন তার দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত করতে গেল, তিনি বললেন তদন্ত করা যাবে না! দুর্নীতিবাজদের বাঁচাবার দায়িত্ব কি উচ্চ আদালত নিয়েছে? তার মানে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কারও বিচার হবে না!”
সংবাদমেইল/এনআই
Posted ১০:২০ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট ২০১৭
সংবাদমেইল | Nazmul Islam
.
.