বুধবার ৩০ নভেম্বর, ২০২২ | ১৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯

গোলাপগঞ্জে শারিরীক সমস্যা দেখিয়ে ছুটি নিয়ে ৩ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন প্রধান শিক্ষিকা

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি: | শুক্রবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১ | প্রিন্ট  

গোলাপগঞ্জে শারিরীক সমস্যা দেখিয়ে ছুটি নিয়ে ৩ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন প্রধান শিক্ষিকা

গোলাপগঞ্জের দক্ষিণ রায়গড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জেসমিন সুলতান

সিলেটের গোলাপগঞ্জে এক প্রধান শিক্ষিকা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেও তিনি দাপ্তরিক ডকুমেন্টসে তিনি গোলাপগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রায়গড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। যদিও প্রধান শিক্ষিকা ২০১৮ সালে শারিরীক সমস্যা দেখিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে ৩ মাসের ছুটি নিয়ে আজ অব্দি তিনি কর্মস্থলে নেই। ইতোমধ্যে তিনি ব্যাংক থেকে সরকারী বেতনও উত্তোলন করেছেন। রহস্য জনক কারণে উপজেলা শিক্ষা অফিসার নির্বিকার। তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি দীর্ঘ দিন ধরে । ওই প্রধান শিক্ষিকা হলেন জেসমিন সুলতানা। তিনি উপজেলার দক্ষিণ রায়গড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অবশেষে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে তদন্তে নামলেন সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের দায়িত্ব প্রাপ্তরা।


উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের দক্ষিণ রায়গড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জেসমিন সুলতানা প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৮ সালে শারিরীক সমস্যা দেখিয়ে স্কুল থেকে তিন মাসের ছুটি নেন। এর পর থেকে এখনো তিনি কর্মস্থলে যোগ দান করেননি এ নিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে একাধিকবার এ ব্যাপারে কৈফিয়ত চেয়ে তার ঠিকানায় পত্র পাঠালেও কেউ তা গ্রহণ করেননি বলে উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানা যায়। অবশেষ ওই বিদ্যালয়ের সদ্য অনুমোদিত নতুন কমিটি দায়িত্ব পাবার পর জেলা শিক্ষা অফিসে এসব অভিযোগ করা হলে উক্ত বিষয়ে সিলেটের জেলা শিক্ষা অফিস থেকে তদন্তের জন্য নির্দেশ দেন বিয়ানীবাজার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুমান মিয়াকে।

গত ০৭ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জেলা শিক্ষা অফিসের নির্দেশে তদন্তে আসেন ওই বিদ্যালয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুমান মিয়া। তিনি গোপনে ও প্রকাশ্যে তদন্ত করছেন। তিনি জানান আমি এসে শিক্ষকবৃন্দ, ম্যানেজিং কমিটি সদস্যদের বক্তব্য শুনেছি। এবং বিদ্যালয়ে উপস্থিতি শিক্ষক হাজিরা খাতা, অন্যান্য তথ্যগুলো তদন্ত করেছি। অবৈধ ভাবে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার সত্যতা পাওয়া গেছে। শ্রীঘই আমি তদন্ত রিপোর্ট উর্ধ্বোতন কর্মকর্তার বরাবর পাটানো হবে। এ বিষয়ে উধ্বর্তন কতৃপক্ষ প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহন করবেন বলে এ প্রতিবেদককে জানান।


এ ব্যাপারে এ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকা নিয়তী রাণী চন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, প্রধান শিক্ষিকার অনুপস্থিতির বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে অবগতি করা হয়েছে। তাছাড়া প্রধান শিক্ষিকা জেসমিন সুলতানা সোনালী ব্যাংকে আমাকে জামিন রেখে ঋণ উত্তোলণ করেছেন। তিনি নিয়মিত ব্যাংকের টাকা পরিশোধ না করায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমাকে চাপ সৃষ্টি করছেন।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আজিজ খান ও সহ-সভাপতি সেলিম আহমদ বলেন, বিদ্যালয়ের সংরক্ষিত তথ্যমতে প্রধান শিক্ষিকা জেসমিন সুলতানা যোগদান করার পর থেকে মাঝে মধ্যে স্কুলে আসতেন। তিনি প্রতিষ্ঠানের কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, হাজিরা খাতা ও স্লিপের টাকা নিয়ে প্রায় ৫ বছর ধরে উধাও। শুনেছি স্বপরিবারে আমেরিকায় আছেন। তবে ব্যাংক থেকে সরকারি বেতন উত্তোলন করার সময় কয়েকদিন বিদ্যালয়ে এসেছেন। ব্যাংক থেকে কিভাবে বেতনের টাকা উত্তোলন করছেন তাহা জানা নেই।


উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান নাজমুল আলমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তিন মাসের চিকিৎসা জনিত ছুটি নিয়েছেন প্রায় কয়েক বছর আগে। এখন কোথায় আছেন তিনি জানেন না।

Facebook Comments Box

Comments

comments

advertisement

Posted ১০:২৭ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১

সংবাদমেইল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. মানজুরুল হক

নির্বাহী সম্পাদক: মো. নাজমুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক : শরিফ আহমেদ

কার্যালয়
উপজেলা রোড, কুলাউড়া, মেলভীবাজার।
মোবাইল: ০১৭১৩৮০৫৭১৯
ই-মেইল: sangbadmail2021@gmail.com

sangbadmail@2016 কপিরাইটের সকল স্বত্ব সংরক্ষিত