সোমবার ৬ ডিসেম্বর, ২০২১ | ২১ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮

কুলাউড়া জালালীয়া মাদরাসা রক্ষার্থে এলাকাবাসীর মানববন্ধন, দুগ্রুপের সংঘর্ষ

বিশেষ প্রতিনিধি,সংবাদমেইল২৪.কম | শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২০ | প্রিন্ট  

কুলাউড়া জালালীয়া মাদরাসা রক্ষার্থে এলাকাবাসীর মানববন্ধন, দুগ্রুপের সংঘর্ষ

কুলাউড়ার প্রাচীনতম দ্বীনি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান জালালীয়া দাখিল মাদরাসায় আবারো উত্তপ্ত পরিস্থিতির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মাদরাসা রক্ষায় বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ও দুর্নীতিবাজ সুপার মাওলানা আব্দুস শহীদকে অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী এবং মাদ্রাসার সাবেক ও বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ।

(১৪ মার্চ) শনিবার দুপুরে মানববন্ধনে অংশ নেন এলাকার মুরব্বী আব্দুল বাছিত লেবু, পাখি মিয়া সহ অভিভাবক সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীবৃন্দ।


মানববন্ধন শুরুর এক পর্যায়ে মাদ্রাসায় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের রুপ নেয়। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সুপার মুজিবুর রহমান ও সুপার আব্দুস শহীদ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে দু’পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।

সরেজমিন মাদরাসায় গেলে জানা যায়, মাদ্রাসার স্থগিত কমিটির শিক্ষানুরাগী সদস্য সুয়েব আহমদ, সিনিয়র শিক্ষক আব্দুস সামাদের শ্যালক বাচ্ছু মিয়া, সিএনজি চালক শাহীন আহমদসহ প্রায় ১০-১২ জন বহিরাগত লাঠিসোটাসহ ভারপ্রাপ্ত সুপার মুজিবুর রহমানের অফিস কক্ষে গিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে কুলাউড়া হাসপাতালে ভর্তি করেন। এসময় বহিরাগতরা মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপারের কক্ষে ভাংচুর চালায় এবং অফিস করণিকের একটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে। তবে প্রত্যক্ষদর্শী অনেকেই বলেন, মাদরাসার করণিক আলাউদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত সুপারের ওপর দোষ চাপাতে নিজে তাঁর লোকজন দিয়ে সাইকেল ভাংচুর করান।


খবর পেয়ে কুলাউড়া থানা পুলিশের এস আই মাসুদ আলম ও আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম ফরহাদ চৌধুরী ও কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইয়ারদৌস হাসান মাদ্রাসায় উপস্থিত হয়ে ঘটনার সত্যতা পান। তখন তারা মাদ্রাসার শিক্ষক, স্থানীয় গনমান্যদের নিয়ে আলোচনায় বসেন। এবং মাদ্রাসার স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরেয়ে না আনা পর্যন্ত মাদ্রাসার সাবেক সুপার মাওলানা আব্দুস শহীদ, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা মুজিবুর রহমান, সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা আব্দুস সামাদ ও করণিক আলাউদ্দিন আহমদকে মাদ্রাসায় না আসতে নির্দেশনা দেন।

এদিকে মাদরাসার স্থগিত কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রউফের ছলচাতুরীর কারণে এই মাদ্রাসা আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌছাছে বলে মনে করছেন স্থানীয় অনেকেই। তাঁর প্রকাশ্য ইন্ধনে মাদ্রাসায় আবারো পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে। মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় অভিযুক্ত সুপার মাওলানা আব্দুস শহীদ দুই মাস কারাবরণ শেষে গত বৃহস্পতিবার জামিনে এসে মাদরাসা নিয়ে আবারও গভীর ষড়যন্ত্র শুরু করেন। তাকে ফের দায়িত্বে বসানোর পায়তারায় লিপ্ত হন মাদ্রারাসার স্থগিত কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রউফ, সিনিয়র শিক্ষক আব্দুস সামাদ, করণিক আলাউদ্দিন আহমদসহ একাধিক ব্যাক্তি।


শনিবার ১৪ মার্চ সেই বিতর্কিত সুপার আব্দুস শহীদকে দায়িত্ব বহাল রাখার চেষ্ঠার প্রতিবাদে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসীর আয়োজনে মানবন্ধনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এদিকে মাদরাসা নিয়ে সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ ও সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা আব্দুছ সামাদের গভীর ষড়যন্ত্রের ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হলে এ নিয়ে এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সুপার শহীদকে ফের দায়িত্বে আনার জন্য অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ উঠেপড়ে লেগেছেন। ফোনলাপে অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুছ সামাদকে নির্দেশ দেন একটি মেয়ে রয়েছে। তাকে মাদ্রসায় ৫ম শ্রেণিতে ভর্তি করাতে হবে। সময়মত তাকে দিয়ে মাওলানা মুজিবুর রহমানকে হেনস্তা করানো হবে। তখন সামাদ বলে, স্যার কিভাবে কি করবো, সব কাগজপত্র তো মুজিবুর রহমানের কাছে। তখন আব্দুর রউফ বলেন, মুজিবুর কিছু করতে পারবে না, তোমরা একটু ধর্য্য ধরো। তুমি মাদ্রাসার করণিক আলাউদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করো। সে ভর্তি করবে। আবার আরেক প্রশ্নে সামাদ বলেন, স্যার সুপার হুজুরের জামিনের কোন ব্যবস্থা করা যাবে কি। তখন রউফ বলেন, খুব শীঘ্রই তার জামিন হবে। আরেক ফোঁনালাপে শিক্ষক সামাদ ও করণিক আলাউদ্দিনের মাদ্রাসা নিয়ে কথা হয়। সামাদ বলেন সুপার শহীদকে অপসারণ করার জন্য বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সুপার দৌঁড়ঝাপ করছেন। তখন আলাউদ্দিন বলে, শহীদ হুজুরকে নয় বর্তমান সুপার মুজিবুর কে সাসপেন্ড করবো। তখন তারা বলে উপজেলা প্রশাসন কিভাবে কমিটি বাতিল করবে, যেখানে কোন সভাপতি, সম্পাদক, এডহক কমিটি নেই। তখন আব্দুর রউফ বলেন, সুপার শহীদ জেল থেকে বের হয়ে আসলে আমরা সবাই বসে সভা করে মুজিবুর রহমানকে বরখাস্ত করবো। তুমরা একটু ধর্য্য ধরো। মাদ্রাসা নিয়ে এমনসব ষড়যন্ত্রের কথা শুনে গত ১১ মার্চ মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা মুজিবুর রহমান কুলাউড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (নং- ৫৬৫) করেন।

মাদ্রাসার স্থগিত কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রউফ মুঠোফোনো বলেন, দুই মাস ধরে আমি মাদ্রাসার ধারে কাছে নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনকে বলা হয়েছে, তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে। আর ভয়েস রেকর্ডের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠতে পারেই তাই বলে কি সবকিছু কি সঠিক। আমি চাই প্রশাসনের সহযোগিতায় এলাকার সবাইকে নিয়ে মাদরাসার স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসুক।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, সরেজমিন কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ ইয়ারদৌস হাসানকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। শিক্ষকদের মধ্যে আন্তরিকতা অনেক ত্রুটি রয়েছে। মাদ্রাসার স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে ঘটনার সাথে জড়িত ৩ জন শিক্ষক ও অফিস করণিকে বর্তমানে মাদ্রাসায় না আসতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তদন্তক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Facebook Comments Box

Comments

comments

advertisement

Posted ৬:০৭ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২০

সংবাদমেইল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. মানজুরুল হক

নির্বাহী সম্পাদক: মো. নাজমুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক : শরিফ আহমেদ

কার্যালয়
উপজেলা রোড, কুলাউড়া, মেলভীবাজার।
মোবাইল: ০১৭১৩৮০৫৭১৯
ই-মেইল: sangbadmail2021@gmail.com

sangbadmail@2016 কপিরাইটের সকল স্বত্ব সংরক্ষিত