মঙ্গলবার ৪ অক্টোবর, ২০২২ | ১৯ আশ্বিন, ১৪২৯

কুলাউড়ায় হিন্দু শিক্ষক দিয়ে চলছে ইসলাম শিক্ষার ক্লাস

স্টাফ রিপোর্টার,সংবাদমেইল২৪.কম | সোমবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট  

কুলাউড়ায় হিন্দু শিক্ষক দিয়ে চলছে ইসলাম শিক্ষার ক্লাস

কুলাউড়ার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই কোনও মুসলিম শিক্ষক। ফলে ১০০ নম্বরের আবশ্যক বিষয় ইসলাম শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মুসলিম শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়,কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের আমানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৬ মাস থেকে ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের পাঠদান চলছে হিন্দু শিক্ষক দিয়ে। বিদ্যালয়ে কোন মুসলিম শিক্ষক না থাকায় হিন্দু ধর্মের শিক্ষকরা বাধ্য হয়ে ইসলাম ধর্ম বিষয়ের পাঠদান করতে গিয়ে নিজেরা যেমন বিব্রত, তেমনি শিশু বয়সে ধর্মীয় বিষয়ের প্রকৃত শিক্ষাগ্রহণ থেকে স্কুলের ৯০ভাগ মুসলিম শিক্ষার্থীর বঞ্চিত হচ্ছে।


অথচও আগামী ১৮ নভেম্বর পঞ্চম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। এত কম সময়ে ওই স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা কিভাবে পরীক্ষার শেষ প্রস্তুুতি নিবে। এমন প্রশ্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। শিক্ষা বোর্ড সাধারণ পাঠ্য পুস্তকের পাশাপাশি সব ধর্মের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা’ নামে একটি বই সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করে।

কিন্তু কুলাউড়া উপজেলার আমানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোন প্রকার মুসলিম শিক্ষক না থাকা ও একই স্কুলে একাধিক হিন্দু শিক্ষক কর্মরত থাকার কারণেই ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার মূল কারণ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। বিদ্যালয়ে মুসলিম শিক্ষক না থাকায় বাধ্য হয়েই চলছে এ শিক্ষা কার্যক্রম। এই নিয়ে বিদ্যালয়ের অভিভাবকদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এত করে শিক্ষার্থীরা তাদের ধর্মীয় সঠিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় অভিভাবকরা।


রোববার সরেজমিন উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের আমানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ৫জন হিন্দু শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। আর একটি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষকদের সবাই হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ায় তৃতীয় শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের ক্লাস নিতে বাধ্য হন হিন্দু শিক্ষকরা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রাণ কিশোর ভট্টাচার্য জানান, বিদ্যালয়ের ২০১জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৯০ ভাগই প্রায় মুসলিম শিক্ষার্থী। চলতি বছরের ১৪ মার্চ থেকে স্কুলে কোন ধর্মীয় শিক্ষক নেই। এতে করে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ইসলামী শিক্ষা গ্রহণে কিছুটা ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।


এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আয়ুব উদ্দিন ১৭ সেপ্টেম্বর সোমবার মুঠোফোনে জানান, এই বিষয়টি একদিন আগেই আমাকে জানানো হয়েছে। শিক্ষক পরিবর্তন করার কোন সুযোগ আমার হাতে নেই। শিক্ষক বদলির সুযোগ থাকে বছরের জানুয়ারি-মার্চ মাস পর্যন্ত। যদি ওই স্কুল ও আশপাশের স্কুল থেকে দুজন শিক্ষক যদি পারস্পরিক বদলির জন্য আমাদের কাছে লিখিত আবেদন করে তবে আমরা ওই স্কুলে শিক্ষক প্রদান করতে পারবো। ইতোমধ্যে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করেছি।

Facebook Comments Box

Comments

comments

advertisement

Posted ৮:৫৬ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সংবাদমেইল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. মানজুরুল হক

নির্বাহী সম্পাদক: মো. নাজমুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক : শরিফ আহমেদ

কার্যালয়
উপজেলা রোড, কুলাউড়া, মেলভীবাজার।
মোবাইল: ০১৭১৩৮০৫৭১৯
ই-মেইল: sangbadmail2021@gmail.com

sangbadmail@2016 কপিরাইটের সকল স্বত্ব সংরক্ষিত