থানায় বনবিভাগ ও খাসিয়ার অভিযোগ

কুলাউড়ায় নুনছড়ায় চারা রোপনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ,আহত-১২

বিশেষ প্রতিনিধি | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
অ+ অ-

কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের ষাড়েরগজ পাহাড়ের গহীন অরণ্য নুনছড়া ও রুশনাবাদ মৌজা এলাকায় পাহাড়ি জঙ্গলে গাছের চারা রোপনকে কেন্দ্র করে বনবিভাগ ও খাসিয়াদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের প্রায় ১২ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এনিয়ে দুই পক্ষই কুলাউড়া থানায় অভিযোগ দিয়েছে।

(২০ ফেব্রুয়ারী) শনিবার ভোরে এ হামলায় ৩ বনকর্মীসহ সামাজিক বনায়নের ৬ জন ও খাসিয়া সম্প্রদায়ের পালাং,রবেট,রিসন ও শাহীনসজ ৬ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়ার গেছে।



স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নে নুনছড়া ও রুশনাবাদ মৌজার গভীর পাহাড়ি এলাকায় বনবিভাগ ১০ হেক্টর সামাজিক বনায়নের লক্ষ্যে ২০২০ সালের জুন মাস থেকে পরিকল্পনা করছে। সে লক্ষ্যে একটি নার্সারীর কাজ গত অক্টোবর মাসে শুরু করে। কিন্তু খাসিয়ারা পাহাড়ে পান চাষ করে নিজেদের জীবিকা আহরণ করছে। উক্ত জমিতে খাসিয়া সম্প্রদায় এবং সামাজিক বনায়ন ও বনবিভাগ একে অপরের বিপক্ষে হামলা পাল্টা হামলার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছে।

কুলাউড়া রেঞ্জার রেজাউল হক জানান, বনভিাগের সেই কার্যক্রম বিনষ্টের লক্ষ্যে এবং উক্ত জমি জবর দখলের লক্ষ্যে নানা ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনা শুরু করে। ২৮ অক্টোবর নার্সারীর কাজে প্রথম বাঁধা দেয়। বিষয়টি খাসিয়াদের বাঁধার মূখে বনবিভাগ ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসে এবং কুলাউড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (নং ১১৯২ তাং ২৮/১০/২০) করেন। এরপর গত ২৩ নভেম্বর ২য় দফা বনবিভাগের কাজে বাঁধা ও হামলা চালায়। এব্যাপারে বনবিভাগ কুলাউড়া থানায় একটি মামলা (নং ১৬ তাং ২৩/১১/২০) দায়ের করেন। তিনি জানান, বনবিভাগ নার্সারীতে ইতোমধ্যে চারা উৎপাদন কাজ শেষ করেছে। উৎপাদিত চারা পলিব্যাগে তোলার কাজ শুরু করে। শনিবার ভোর ৬টায় বনকর্মীরা নার্সারীতে কাজ করার মুহুর্তে নুনছড়া পানপুঞ্জির মন্ত্রী ববরিন খাসিয়া ও সিলভেস্টার তালের নেতৃত্বে অতর্কিতে সশস্ত্র হামলা চালায়। খাসিয়ারা তীরধনুক, গুলতি (স্থানীয় ভাষায় গুলইল) ও লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিত হামলায় বনপ্রহরী আব্দুল হালিম, বনমালী জিয়াউর রহমান, প্রহরী প্রতাপ চন্দ্র দেব, উপকারভোগী ও শ্রমিক ইছাক আলী, এলাইচ মিয়া ও ফজলু মিয়া আহত হন। আহতদের মধ্যে বন নার্সারীর লেবার ইছাক আলীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকিদের উদ্ধার করে কুলাউড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রেঞ্জার আরও জানান, বনকর্মী ও উপকার ভোগীরা আহত হওয়া ছাড়াও খাসিয়াদের হামলায় চারাসহ ১০ হাজার পলি ব্যাগ ও নার্সারী জন্য নির্মিত শেডঘর ভাঙচোর করেছে। এতে বনবিভাগের ২ লক্ষাধিক টাকা ক্ষতি হয়েছে। এঘটনায় নলডরী বিট কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বাদি হয়ে কুলাউড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। তিনি আরো বলেন, খাসিয়ারা একতরফাভাবে বনবিভাগের লোকজনের উপর হামলা করেছে। বার বার হামলার ঘটনা ঘটলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের কারণে সরকারি কাজ বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। হামলার পরও ঘটনাস্থলে বনবিভাগের লোকজন রয়েছে। ফলে তাদের উপরও ফের হামলার আশঙ্কা রয়েছে। বনবিভাগের লোকজন রয়েছেন নিরাপত্তাহীনতায়। এভাবে সরকারি দায়িত্ব পালন করা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান।

নুনছড়া পানপুঞ্জির মন্ত্রী ববরিন খাসিয়ার সাথে মোবাইল (নং ০১৭১৬১১২১৫২) ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এদিকে ওয়াকিবহাল একটি সূত্রে জানায়, খাসিয়াদের মধ্যে আহত ৩ জনকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।

কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ বিনয় ভূষণ রায় শনিবার সন্ধ্যায় জানান, বনবিভাগ ও খাসিয়া সম্প্রদায় থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। খাসিয়ারা তাকে মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন, এই ঘটনায় উভয় পক্ষের ১২ জন আহত হয়েছে।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, বনবিভাগের লোকজনের উপর হামলার ঘটনা জেনে আহতদের দেখতে কুলাউড়া হাসপাতালে গিয়েছি। বনবিভাগকে বলেছি থানায় মামলা করার জন্য। বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই ঝামেলা চলছে। ২১ ফেব্রুয়ারী খাসিয়া ও বনবিভাগকে নিয়ে বৈঠকে বসার কথা ছিলো।

Comments

comments

পড়া হয়েছে 216 বার
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
x