সোমবার ৬ ডিসেম্বর, ২০২১ | ২১ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮

ওয়ার্নার-মার্শ তাণ্ডবে প্রথমবারের মতো

অস্ট্রেলিয়ার ঘরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা

স্পোর্টস ডেস্ক : | রবিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২১ | প্রিন্ট  

অস্ট্রেলিয়ার ঘরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা

নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘরে তুললো অস্ট্রেলিয়া। অসি ব্যাটারদের সামনে ট্রেন্ট বোল্ট ছাড়া আর কোনো কিউই বোলার সফল হতে পারেননি। সাউদি, ইশ শোধির মতো বোলারও বেদম পিটুনি খেয়েছে ওয়ার্নার ও মার্শের কাছে।  কিউইদের দেওয়া ১৭৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৮ উইকেট হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় অজি শিবির।
আইসিসি ইভেন্টে সবচেয়ে সফল দল অস্ট্রেলিয়া। এখন পর্যন্ত মোট ১১টি আইসিসি ফাইনালে ৮টিতে জিতেছে তারা। এর মধ্যে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে রেকর্ড পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এছাড়া দুটি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিও অজিদের দখলে। এতদিন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ট্রফিটা অধরা থাকলেও এবার সেটিও ঘরে তুললো ক্যাঙ্গারুরা। অন্যদিকে বিশ্বকাপ আসরে ফের কপাল পুড়লো নিউজিল্যান্ডের। ২০১৫ ও ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে হারার পর এবার প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেও পরাজয় বরণ করলো কিউইরা।
ফাইনালে গোটা টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলা নিউজিল্যান্ডকে সেভাবে পাত্তা দিল না অস্ট্রেলিয়া। নিউজিল্যান্ডের ছুঁড়ে দেওয়া ১৭২ রানের টার্গেটও অনেকটা হেসেখেলেই পার করে দিল অসি ব্যাটাররা। ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারের পর ঝড়ো ইনিংস খেললেন ওয়ানডাউনে নামা মিচেল মার্শ।
গত ম্যাচের মতো শুরুতে অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চকে (৫ রান) হারালেও সপাটে ব্যাট চালিয়ে গেছেন ওয়ার্নার ও মার্শ। তিনে নামা মিচেল মার্শ ৫০ বলে ৪ ছক্কা ও ৬ চারে অপরাজিত ৭৭ রানের ইনিংস খেলেন। ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ৩৮ বলে ৫৩ রান করেন। এছাড়া গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ১৮ বলে ২৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। ৩১ বলে অর্ধশত পূরণ করেন মার্শ। এটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে দ্রুততম ফিফটি। অস্ট্রেলিয়ার দুটি উইকেটই নিয়েছেন কিউই পেসার ট্রেন্ট বোল্ট। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম আসরটির বৈশ্বিক শিরোপা জিতলো অজিরা।
এর আগে কেন উইলিয়ামসনের ব্যাটিং তাণ্ডবে বিশ্বকাপ ফাইনালে রানের রেকর্ড গড়ে নিউজিল্যান্ড। উইলিয়ামসনের ৪৮ বলে ১০টি চার ও ৩ ছক্কায় গড়া ৮৫ রানের সুবাদে ৪ উইকেটে ১৭২ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে তারা।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৩২ রান স্কোর বোর্ডে যোগ করে নিউজিল্যান্ড। যদিও পরের চার ওভারেও সেভাবে রান জমা করতে পারেনি উইলিয়ামসনরা। ১০ ওভার শেষে কিউইদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৫৭ রান। দলের স্কোর মোটাতাজা করতে গিয়ে এরপর অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের ওপর রীতিমতো চড়াও হন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। মিচেল স্টার্কের করা ১১তম ওভারে তিন বাউন্ডারিতে ১৯ রান আদায় করে নেন তিনি। ১২তম ওভারে লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা এসে তুলে নেন ওপেনার মার্টিন গাপটিলের উইকেট। সেই ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৫ রান করার সুযোগ পায় নিউজিল্যান্ড। তবে ১৩তম ওভারে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে পরপর দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে ১৬ রান আদায় করে নেন উইলিয়ামসন। ১৪তম ওভারে প্যাট কামিন্সের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মাত্র ৫ রান আদায় করতে পারেন উইলিয়ামসন- গ্লেন ফিলিপস। ১৫তম ওভারে অ্যাডাম জাম্পাকে এক চার ও একটি ছক্কা হাঁকিয়ে ১২ রান আদায় করে নেন ফিলিপস। ১৬তম ওভারে মিচেল স্টার্কের ওপর ফের চড়াও হন কেন উইলিয়ামসন। সেই ওভারে ৪টি চার ও এক ছক্কা হাঁকিয়ে সর্বোচ্চ ২২ রান আদায় করে নেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক। ১৭তম ওভারে প্যাট কামিন্স মাত্র ৮ রান খরচ করেন। জশ হ্যাজলউডের করা ১৮তম ওভারের প্রথম বলটি ডট দেন ফিলিপস। দ্বিতীয় বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। ১৭.২ ওভারে দলীয় ১৪৪ রানে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফেরার আগে ১৭ বলে এক চার ও এক ছক্কায় ১৮ রান করেন ফিলিপস। ফিলিপস আউট হওয়র পর সেই ওভারেই জশ হ্যাজলউডের বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন কেন উইলিয়ামসন। দলীয় ১৪৪ রানে ৪৮ বলে ৮৫ রান করে ফেরেন তিনি।
উইলিয়ামসন আউট হওয়ার পর জেমস নিশাম ও টিম সিপার্ট স্কোর বোর্ডে সেভাবে রান জমা করতে পারেননি। যে কারণে ৪ উইকেটে ১৭২ রানে ইনিংস গুটাতে হয় নিউজিল্যান্ডকে।

আইপিএলে উপেক্ষিত হলেও বিশ্বকাপে সেরা ওয়ার্নার
কিউইদের বধে অসামান্য অবদান রাখায় বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন ডেভিড ওয়ার্নার।
যদিও বিশ্বকাপ শুরুর আগে রীতিমতো অফফর্মে ছিলেন অজিদের বাঁহাতি ওপেনার ওয়ার্নার। যে কারণে তাকে আইপিএলের মূল একাদশ থেকে ছুড়ে ফেলা হয়। এমনকি একটি ম্যাচে দলের সঙ্গে মাঠে না এনে, রেখে আসা হয় টিম হোটেলে।
সেই ওয়ার্নারই জাতীয় দলের জার্সিতে ধারাবাহিক উজ্জ্বল পারফরম্যান্সে জিতে নিয়েছেন বিশ্বকাপের সেরার পুরস্কার। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এ পুরস্কার জিতলেন তিনি।
ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৩৭ বলে ৫৩ রানের ঝকঝকে ইনিংস। সবমিলিয়ে বিশ্বকাপের সাত ম্যাচ খেলে তিন ফিফটিতে ২৮৯ রান করেছেন ওয়ার্নার। যা এবারের আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। টুর্নামেন্টে ওয়ার্নারের ব্যাটিং গড় ৪৮.১৬, স্ট্রাইক রেট ১৪৬.৭০।


রেকর্ড ভেঙে ম্যান অব দ্য ফাইনাল মার্শ

ফাইনালে দুর্দান্ত খেলে ‘ম্যান অব দ্য ফাইনাল’ পুরস্কার জিতেছেন অজি ব্যাটার মিচেল মার্শ। এর আগে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে মাত্র ৩২ বলে ফিফটি করে বিশ্বকাপ ফাইনালে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়েছিলেন কিউই অধিনায়ক কেইন উইলিয়ামসন। রান তাড়া করতে নেমে ৩১ বলে ফিফটি করে সেই রেকর্ড নিজের করে নেন মিচেল মার্শ।
শুধু এই রেকর্ড ভাঙাই নয়, তিন নম্বরে নেমে শেষপর্যন্ত ৫০ বলে ৭৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে বিশ্বকাপের শিরোপাই এনে দিয়েছেন মার্শ। যার ফলে তার হাতেই উঠেছে বিশ্বকাপের ম্যান অব দ্য ফাইনাল পুরস্কারটি।
বিশ্বকাপ জয়ে বাংলাদেশকে হারানো ছিল অস্ট্রেলিয়ার টার্নিং পয়েন্ট
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিরতণী অনুষ্ঠানে ফিঞ্চ বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রথমবার এমনটা করে দেখানোটা বিশাল ব্যাপার। এই জয়ে দলের সবার জন্য আমি গর্বিত। বাংলাদেশ ম্যাচটা আমাদের জন্য টার্নিং পয়েন্ট ছিল।’
তিনি আরও বলেন, আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গিয়েছিল। আমাদের লড়াই করতে হতো এবং আমরা তা করতে পেরেছিলাম। দলগত ও ব্যক্তিগত বেশ কিছু উজ্জ্বল পারফরম্যান্স ছিল।’


Facebook Comments Box


Comments

comments

advertisement

Posted ১১:৩২ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২১

সংবাদমেইল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. মানজুরুল হক

নির্বাহী সম্পাদক: মো. নাজমুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক : শরিফ আহমেদ

কার্যালয়
উপজেলা রোড, কুলাউড়া, মেলভীবাজার।
মোবাইল: ০১৭১৩৮০৫৭১৯
ই-মেইল: sangbadmail2021@gmail.com

sangbadmail@2016 কপিরাইটের সকল স্বত্ব সংরক্ষিত