৫ জনের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়লেন স্বজনরা

স্টাফ রিপোর্টার, মৌলভীবাজার | ২০ অক্টোবর ২০১৭ | ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ
অ+ অ-

বৃহস্পতিবার সকলাল থেকেই লাশের অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনরা। একটু পরপর নিচ্ছিলেন খবর। অবশেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মরদেহবাহী শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়িটি এসে পৌঁছায় কমলগঞ্জ কান্দিগাঁও গ্রামে। অপেক্ষারত স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীদের নজরে গাড়িটি আসামাত্র নেমে আসে শোকাচ্ছন্ন পরিবেশ। গাড়িটি যতই তাদের সামনে এগিয়ে আসছিল ততই চোখ থেকে অঝোরধারায় ঝরছিল অশ্রু। কে কাকে দিবে সান্ত্বনা। আত্মীয়-অনাত্মীয় সকলেই যে মর্মান্তিক ঘটনায় আবেগাপ্লুত। এসময় পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। এই হৃদয় বিদারক দৃশ্যে উপস্থিত সকলেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। গত সোমবারের ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর চাউর হওয়ার পর পুরো জেলা জুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। এরপর থেকেই পরিবারের সদস্য, স্বজনসহ জেলাবাসী তাদের লাশের অপেক্ষায় ছিলেন। তাদের জানাজার নামাজে অংশ নেওয়ার জন্য সময়ের প্রহর গুনতে থাকেন। পরিবারের সদস্যরা জানান জুনেদ আহমদের স্ত্রী রোকেয়া বেগমসহ তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মরদেহ গতকাল সকাল সাড়ে ৮টায় লাশবহনকারী কুয়েত এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল (রা.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে মরদেহ গ্রহণ করেন সাবেক চিফ হুইপ আলহাজ্ব উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ এমপি। মরদেহ গ্রহণের সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ মো. শাহাব উদ্দীন এমপি, বাংলাদেশ প্রবাশী ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় পরিচারক (অর্থ) মো. শফিকুর রহমান, সহকারী পরিচারক মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ। বিমানবন্দর আনুষ্ঠানিকতা শেষে সড়ক পথে সকাল ১০টায় মরদেহ নিয়ে কমলগঞ্জের কান্দিগাঁও গ্রামের বাড়ির যাত্রা করা হয়। সন্ধ্যা দিকে গ্রামের বাড়িতে মরদেহ এসে পৌঁছায়। এদিকে মরদেহ আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে কমলগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকা হতে লোকজন নিহতের একনজর দেখার জন্য ও তাদের জানাজার নামাজে অংশগ্রহণের জন্য কান্দিগাঁও গ্রামের বাড়িতে ভিড় করতে থাকেন। এ সময় পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত সকলকে জানান নিহতের জানাযার নামাজ রাত সাড়ে ৮টায় কমলগঞ্জ উপজেলার সফাত আলী সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। এসময় তারা সকলের কাছে নিহতের মাগফেরাত কামনায় দোয়া চান। বুধবার কুয়েত সময় রাত ১২টায় কুয়েত এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে স্ত্রী-সন্তানদের মরদেহ নিয়ে রওনা দেন জুনায়েদ মিয়া। স্বজন হারানো পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে মৌলভীবাজার থেকে ছুটে যান মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম, ও কমলগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য বক্তিবর্গ ও জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্থরের মানুষ। উলেখ্য, গত সোমবার স্থানীয় সময় দুপুরে কুয়েতের সালমিয়াত ৫তলার একটি ভাড়া বাসায় ৩তলায় এসি বিস্ফোরণের পর গ্যাসের সিলিন্ডারও বিস্ফোরিত হয়। এরপর বারান্দায় থাকা সোফায় লাগা আগুনের ধোঁয়ায় ৫তলা থেকে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসার সময় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান জুনেদ আহমদের স্ত্রী-সন্তানরা। এ সময় জুনেদ আহমদ বাইরে থাকায় তিনি বেঁচে যান। নিহতরা হলেন- রোকেয়া বেগম (৩৪), জামিলা জান্নাত (১৫), ইমাদ আহমদ (১২), নাবিলা জান্নাত (১০) ও ফাহাদ আহমদ (৬)।



Comments

comments

পড়া হয়েছে 1282 বার
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
x