স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা

সেই পার্লামেন্টারিয়ানের চেয়ারে কে বসছেন!

বিশেষ প্রতিনিধি,সংবাদমেইল২৪.কম | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ | ৫:৪২ অপরাহ্ন
অ+ অ-

সুনামগঞ্জের দিরাই-শাল্লা উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের ২২৫ (সুনামগঞ্জ-২) আসনে কে হচ্ছেন পরবর্তী সংসদ সদস্য,বিষয়টি এখন হাওরপাড়ের লোকজনের মুখে মুখে। স্বাধীনতা-উত্তর অনুষ্ঠিত দেশের ১০টি জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে সাতবার এ আসন থেকে সংসদ সদস্য হন হাওরের মাটিতে বেড়ে ওঠা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। আজীবন বাম রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত সুরঞ্জিত ন্যাপ, একতা, গণতন্ত্রী পার্টি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বারবার বিজয়ী হয়েছেন। গত ৫ ফেব্রুয়ারি বর্ষীয়ান এ নেতার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়।

জানা যায়, বিধি অনুযায়ী,৯০ দিনের মধ্যে এ আসনে নির্বাচন হওয়ার কথা। তবে এমন একজন নেতার শূন্য আসনে কে প্রতিনিধিত্ব করবেন,বিষয়টি এখন আলোচনায় পুরো সিলেটের রাজনীতিতে। হাওরবাওড়বেষ্টিত নির্বাচনী এলাকার জীবনমানের তেমন উন্নয়ন না হলেও সুরঞ্জিত ছিলেন স্থানীয় লোকজনের কাছে গর্বেরও অহংকারের প্রতীক। দিরাই-শাল্লার লোকজন সুরঞ্জিতের শূন্য আসনে তার পরিবারের সদস্যদের দেখতে চান। তারা মনে করেন,তাদের প্রিয় ‘দাদা’র স্ত্রী জয়া সেনগুপ্ত বা পুত্র সৌমেন সেনগুপ্তই হবেন যোগ্য উত্তরাধিকার। ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে বাবার অসম্পন্ন কাজ সম্পন্ন করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন সৌমেন সেনগুপ্ত। তার এ প্রত্যয়কে স্বাগত জানিয়েছেন হাওরপাড়ের লোকজন। যদিও প্রয়াত নেতার পরিবার এখনই এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। স্ত্রী-পুত্র এখন ব্যস্ত শ্রাদ্ধানুষ্ঠান নিয়ে। ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকেশ্বরী মন্দিরে এ অনুষ্ঠান হবে।



ইতিমধ্যে অনুষ্ঠানে আসার জন্য জয়া সেনগুপ্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে, বৃহত্তর সিলেটের আওয়ামী লীগের প্রয়াত বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদদের পরিবার দেশের অন্য অঞ্চলের নেতাদের মতো দলীয় সুবিধা পায় না। বাবার উত্তরাধিকার হিসেবে শূন্য আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েও না পাওয়ার তালিকা অনেক দীর্ঘ। এর মধ্যে দেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদ, স্পিকার হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী শাহ এএসএম কিবরিয়া, সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী এনামুল হক, সাবেক বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী দেওয়ান ফরিদ গাজীর সন্তানরা দলীয় মনোনয়ন চেয়ে বঞ্চিত হয়েছেন। ব্যতিক্রম আরেক সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর পরিবার। বর্তমান সরকারের মন্ত্রী থাকাকালে তিনি মারা যান। মৃত্যুর পর তার শূন্য আসনে প্রতিনিধিত্ব করছেন মহসিনের স্ত্রী সায়রা মহসিন। অতীতের বঞ্চনায় থাকতে চান না দিরাই-শাল্লার মানুষ। প্রয়াত  সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর পরিবারের মতো সুবিধা চান সুরঞ্জিতের পরিবারও। একই প্রত্যাশার কথা জানান দিরাই-শাল্লার বিভিন্ন পেশার লোকজন।

উল্লেখ্য, যদিও আওয়ামী লীগের স্থানীয় একাধিক নেতা এ আসনের উপ-নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এখনও কেউ প্রকাশ্যে মাঠে নামেননি। তারা সুরঞ্জিতের শোককে কাটিয়ে উঠতে কিছু দিন সময় নিয়ে মাঠে নামতে চান।

সংবাদমেইল২৪.কম/এসএ/এনএস

Comments

comments

পড়া হয়েছে 554 বার
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত