শিক্ষার স্বরূপ উদঘাটন প্রেক্ষিত বাংলাদেশ

মোঃ আমির হোসেন | ১৪ জানুয়ারি ২০২০ | ৫:০০ অপরাহ্ণ
অ+ অ-

Education is the backbone of a nation. In another conception we may say that education is a power. এ কথার নিগূঢ় অর্থ অন্বেষণে আমার এক স্নেহাস্পদ শিক্ষার্থী শিখামনি জিজ্ঞেস করেছিল “শিক্ষা শক্তি কেমন করে হয় ?” তখন নবীন শিক্ষক হিসেবে আমার উত্তরের প্রাসঙ্গিকতা বা গভীরতা কতটুকুন ছিল তা বিবেচ্য, তবে তাৎক্ষণিক উত্তরটা ছিল “যা অচলকে সচল আর সচলকে অচল করতে পারে তাকে যেমন বিজ্ঞানের ভাষায় বল বা শক্তি বলে তেমনি শিক্ষা অচলকে সচল এবং সচলকে অচল করতে সক্ষম।” জন্মগ্রহণ করলেই মানুষের যোগ্যতা বা মনুষ্যত্ব অথবা তার সব গুন (তার মধ্যে) বিকশিত হয় না।

এসব গুণ তাকে নিজের সাধনায় অর্জন করতে হয়। আর যথার্থভাবে তা অর্জন করা সম্ভব হলে তার মধ্যে যোগ্যতার বিকাশ ঘটে, মনুষ্যত্ব অর্জিত হয়, যথার্থ মানুষ হিসেবে তখন তার বৈশিষ্ট্য রুপলাভ করে, এ যোগ্যতা বা গুণাবলী অর্জনের জন্য মানুষকে যা অর্জন করতে হয় তা হলো শিক্ষা। শিক্ষার্জনের মাধ্যমে মানুষ জীবনকে বিকশিত ও প্রতিষ্ঠিত করে সাথে সাথে সৃষ্ঠির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে আপন মহিমায় উদ্ভাসিত হয়। ব্যক্তিজীবনে শিক্ষার এ সাফল্য জাতীয় জীবনে প্রতিফলিত হয়ে জাতিকে সমৃদ্ধ করে। বিশ্বের দরবারে অর্জন করে মর্যাদাপূর্ণ আসন। এসব কারণেই শিক্ষাকে জাতির মেরুদন্ড বলা হয়।
দিন বদলের বইছে হাওয়া।
শিক্ষা মোদের প্রথম চাওয়া।



শিক্ষার বৈশিষ্ট্য : Education is the harmonious  development of  body, mind and soul. শিক্ষা মানবিক, দৈহিক ও নৈতিক ধারাবাহিক পরিবতর্নের মাধ্যমে তিমির বিদারী সূর্যের আবির্ভাবের মতো মানুষের সামগ্রিক উন্নয়ন সাধন করে। জ্ঞানার্জনের লক্ষ্য সামনে রেখে শিক্ষার বিভিন্ন পদ্ধতির প্রয়োগে জীবনকে উৎকর্ষমন্ডিত করা হয়। শিক্ষার্থীর মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শিতা বা পূর্ণতা বিকাশ লাভ করে। কেননা অজানাকে জানার নাম যেমনি শিক্ষা এবং যে শিক্ষাজর্নের কৌশল বা পদ্ধতি প্রয়োগ করার স্তর বিন্যাসই হলো Curriculum । মানুষের সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করার প্রধান, অন্য কথায় একমাত্র সোপান বা মাধ্যম শিক্ষা। বিশ্বের বিচিত্র জ্ঞান ভান্ডারে জীবনের পথে শত সহস্র বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে জীবনে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়ার প্রধান অনুসঙ্গ হিসেবে ভূমিকা পালন করে শিক্ষা। মানুষের মধ্যে যে অফুরন্ত সম্ভাবনা নিহিত রয়েছে তা বিকশিত করে মানবকল্যাণের কাজে লাগানোর কৌশল নিহিত রয়েছে শিক্ষা পদ্ধতিতে।

জাতীয় জীবনে শিক্ষা : জাতীয় জীবনে শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। জাতীয় উন্নয়নে শিক্ষার অপরিহার্যতা অনস্বীকার্য। বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্জনের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে মানুষ জাতির উন্নতির পথ প্রসারিত করে। অন্যদিকে শিক্ষার অভাবে জাতি নির্জীব হয়ে যায়। শিক্ষাহীন জাতি উন্নয়ন কর্মকান্ডে জড়িত হতে পারে না। ফলে দারিদ্রতা তার বৈশিষ্ট্য হয়ে পড়ে। বিশ্বে অনুন্নত ও অনগ্রসর জাতির দুঃখ-দুর্দশা কেবল অশিক্ষারই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ফল। অশিক্ষা সকল সমস্যার উৎস বা সুতিকাগার। অশিক্ষা শুধু শক্তি নয় সাথে সাথে জাতিকেও মর্যাদাহীন করে তোলে। শিক্ষা জাতিকে সামগ্রিক সমৃদ্ধি ও মর্যাদাসম্পন্ন করে তোলে এবং জাতীয় জীবনে সুখের প্রাচুর্য আনয়ন করে। শিক্ষার মাধ্যমে সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে এবং সভ্যতার উৎকর্ষ সাধিত হয়। শিক্ষিত মানুষের মাঝেই মনীষী ও মহামনীষীর আবির্ভাব ঘটে। জাতির উন্নতির জন্য যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় তার জন্য প্রয়োজন হয় দক্ষ জনশক্তির। আর শিক্ষার মাধ্যমেই গড়ে ওঠে দক্ষ জনশক্তি।

ব্যক্তি জীবনে শিক্ষা : শিক্ষার্জনের মাধ্যমে মানুষ নানাবিধ যোগ্যতা অর্জন করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। তার নিজের গুণের যেমন বিকাশ ঘটায়, তেমনি বিভিন্ন বিষয়ে বিদ্যার্জন করে নানা বিষয়ে পারদর্শী বা বিশেষজ্ঞ হয়ে জনসেবায় আতœনিয়োগ করে। যার শিক্ষা নেই তার বুদ্ধি বিকশিত হয় না। স্বাবলম্বী বা আতœনির্ভরশীল হতে হলে শিক্ষার বিকল্প নেই।

জনশক্তি উন্নয়নে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা কী যথেষ্ট : বিশ্বায়নের এই যুগে পৃথিবী তথ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর। বর্তমানে তথ্য, প্রযুক্তি কিংবা কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা পুরোপরি প্রযুক্তিনির্ভর বা কারিগরি মাধ্যমের নয় যা দেশের প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নে যথেষ্ট সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা :

আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিন্মোক্তভাবে বিভক্ত :

* বাংলা মাধ্যম শিক্ষা ব্যবস্থা।
* ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষা ব্যবস্থা।
* মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা : মাদ্রাসা শিক্ষা আবার দু’টি উপধারায় চলছে যা-
(ক) আলীয়া মাদ্রাসা (খ) কওমী মাদ্রাসা

পক্ষান্তরে উন্নত বিশ্বে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলিত। আমাদের দেশে হরেক রকম শিক্ষা ব্যবস্থা বিদ্যমান। আমাদের দেশে চলমান শিক্ষা ব্যবস্থা যথেষ্ট কি না তা আলোচনার প্রয়াস চালাচ্ছি। একজন শিক্ষক হিসেবে আমার মনে হয় আমাদের দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন সম্ভব হবে কি না ভাববার অবকাশ রয়েছে। এমতাবস্থায় আমার মতামত ব্যক্ত করছি। আমার মতে নি¤েœাক্ত কারণে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে শিক্ষার মান উন্নয়নে নিন্মোক্ত বাধা সমূহ

তিরোহিত করা একান্ত অপরিহার্য :

* যুগোপযোগী শিক্ষার অভাব : বিশ্বায়নের এ যুগ খুবই প্রতিযোগিতামূলক। এ প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকার জন্য আবশ্যক যুগোপযোগী দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জ্ঞানী ও শিক্ষিত লোকের। কিন্তু আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রযুক্তি নির্ভর না হওয়ার কারণে এবং যুগোপযোগী শিক্ষার অভাবে দক্ষ ও প্রয়োজনীয় জনশক্তি তৈরি হচ্ছে না। তাই ডিজিটাল বাংলাদেশে শিক্ষা ব্যবস্থা বিশ্বমানের হওয়া বাঞ্চনীয়।

* অবকাঠামোগত দুর্বলতা : অবকাঠামোগত উন্নয়ন শিক্ষা ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য বা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সুন্দর শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন একান্ত প্রয়োজন। অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে মূলত শিক্ষার্জন ও শিক্ষাদানের পরিবেশ বিঘিœত হয়। দৃষ্টান্ত স্বরুপ বলা যায় আমাদের প্রত্যন্ত অঞ্চলে (শাহসুন্দর উচ্চ বিদ্যালয়ের ন্যায়) অনেক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের তুলনায় অবকাঠামো খুবই নগন্য। বর্তমান জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার প্রাণান্ত চেষ্টা চালাচ্ছে এ অবস্থার উত্তরণ ঘঠিয়ে অবকাঠামো যুগোপযোগী করতে। But it will take time to overcome.

মান্ধাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা : সাধারণ ও মাদ্রাসায় শিক্ষাব্যবস্থা এখনো মান্ধাতীয় ভাবধারায় চলছে। ইংরেজ কর্তৃক প্রবর্তিত শিক্ষাব্যবস্থায় ভারতবর্ষের লোকজন বর্ণে হবে ভারতীয় কিন্তু চিন্তা চেতনায় হবে ব্রিটিশ। এমনকি ভারতীয়রা শিক্ষিত হয়ে দক্ষ নাগরিক হিসেবে বিভিন্ন পদে আসীন হোক এটাও তারা কামনা করেনি; বরং তাদের ধ্যান-ধারণা ছিল ইংরেজরা অফিস-আদালতে বড় বড় পদে থাকবে আর আমাদের উপমহাদেশের লোকজন হবে সে অফিসের কেরানি। সে কেরানি বাসনায় মশগুল এদেশবাসী ব্রিটিশ কর্তৃক প্রবর্তিত শিক্ষাদান বা শিক্ষার্জনের আবর্তে এখনো ঘুরপাক খাচ্ছে। তা বর্তমান সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত শিক্ষাদান বা শিক্ষার্জনে এখনো অভ্যস্ত হতে পারছেনা। পারছেনা আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা মনে প্রাণে গ্রহণ করতে-যার ফলে বর্তমান সরকার কর্তৃক সরবরাহকৃত কম্পিউটার, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ব্যবহার না করতে করতে মরিচীকা ধরছে, অকেজো হচ্ছে এবং মাকড়সার জালের মাঝে আবদ্ধ হয়ে ত্রাহি ত্রাহি করছে।

মুখস্থনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা : Committing and Vomitting   পদ্ধতিতে আমাদের দেশের বিদ্যার্থীরা অভ্যস্ত। They are also accustomed to Crame not to realise. তাই শিক্ষার্থীদেরকে পাশের জন্য শুধু গৎবাঁধা মুখস্ত করে নিমগ্ন থাকায় বিরত থেকে সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত সৃজনশীল ভাবধারায় জ্ঞানার্জনের ও জ্ঞানদানের প্রতি সুনজর দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে এগিয়ে আসতে হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদেরকে।

নির্দিষ্ট শিক্ষানীতির অভাব : বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শিক্ষাব্যবস্থায় কোন সুনির্দিষ্ট শিক্ষানীতি নেই। স্বাধীনতা পরবর্তী এ যাবত ৫টি শিক্ষা কমিশন ও ৩টি শিক্ষানীতি প্রনয়ন কমিটি শিক্ষানীতি প্রনয়ন করলেও এসব নীতি দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। ১। ডঃ কুদরাত এ খুদা শিক্ষা কমিশন- ১৯৭২, ২। মফিজ উদ্দিন শিক্ষা কমিশন- ১৯৮৮, ৩। শামসুল হক শিক্ষা কমিশন- ১৯৯৭, ৪। এম এ বারী কমিশন ২০০২ এবং ৫। মনিরুজজমান মিঞা শিক্ষা কমিশন ২০০৩ সনে প্রনয়ন করা হলেও কার্যত প্রয়োগ করতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আবার এক কথায় নির্দ্বিধায় বলা যায় প্রয়োজনীয় জনশক্তি উন্নয়নের লক্ষ্যে দরকার সময়োপযোগী ১টি সুনির্দিষ্ট শিক্ষানীতি যা আমরা প্রনয়ন ও বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ।

ইংরেজি শিক্ষার অভাব : বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে ইংরেজি এখন আর (বিদেশী) ভাষার নাম নয়, বরং এখন একটি টেকনোলজির নাম। ইংরেজি ছাড়া বিশ্বায়নের এযুগে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকা অসম্ভব। সুতরাং প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ার জন্য ইংরেজি ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু আমাদের দেশে বিভিন্নমুখী শিক্ষাব্যবস্থায় আজও ইংরেজিকে ঐভাবে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না। অথচ আমাদের দেশে ১৯৮৫ সন থেকে প্রায় ১০ বছর ইংরেজি ভাষা ঐচ্ছিক বিষয় করে (ইংরেজি আবশ্যিক না করে) অর্থাৎ বাদ দিয়ে স্নাতক পাশ করা যেত। যার ফলশ্রুতিতে বর্তমানে মাধ্যমিক পর্যায়ে ইংরেজি শিক্ষাদানের কোন শিক্ষক নাই। এ শূন্যতার জন্য কে দায়ী ? এমতাবস্থায় আমাদের দেশে চলমান শিক্ষাব্যবস্থায় ইংরেজি শেখায় গুরুত্বারোপ করা অতীব জরুরী।

পর্যাপ্ত গবেষণার অভাব : বর্তমান যুগ জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং তথ্য-প্রযুক্তির যুগ। কিন্তু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এখনো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর নয়। যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করার জন্য প্রয়োজন যথেষ্ট গবেষণা ও গবেষণাগার কিন্তু তা আমাদের দেশে নেই বললেই চলে। আমাদের দেশে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। যার ফলে দক্ষ ও প্রযুক্তি নির্ভর জনশক্তি তৈরি সম্ভব হচ্ছে না।

নকল প্রবণতা : নকল বাঙালী জাতীয় জীবনে এক কলঙ্কের তিলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাথে সাথে এই নকল জাতীর জন্য অন্যতম শত্রু। উন্নত ও দক্ষ জাতি গঠনের অন্যতম প্রধান প্রতিবন্ধকতা হলো পরীক্ষায় নকল প্রবণতা। নকল শিক্ষার্থীর প্রতিভাকে বিকশিত হতে দেয় না। শিক্ষার্থীরা যখন নকলের আশ্রয় নেয় তখন তাদের নৈতিক অবক্ষয় ঘটে। আমাদের দেশে কয়েক বছর আগে নকলের যে ভয়াবহ অবস্থা ছিল তা বলাই বাহুল্য। ইদানীং সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপে নকল প্রবণতা অনেকাংশে কমে এসেছে। শিক্ষার্থীরা পড়াশুনার প্রতি মনোযোগী হয়েছে। এ নকল প্রবণতা দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বিরাট প্রতিবন্ধক। তাছাড়া বিগত কয়েক বছর আরো প্রশ্নপত্র ফাঁসের ফলে জাতি আঁধারে নিমজ্জিত ছিল। বর্তমান সরকারের শক্ত পদক্ষেপের কারণে তা তিরোহিত হয়ে আসছে। গ্লানিমুক্ত হয়ে আশার উজ্জ্বল নক্ষত্র পূর্বাকাশে উদিত হতে চলেছে।

উপসংহার : পরিশেষে এ কথা বলতে এবং স্বীকার করতে পারি যে আমাদের দেশে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজনীয় দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর জনশক্তি উন্নয়নে যথেষ্ট সহায়ক নয়। তবে উপযুক্ত শিক্ষানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষাকে জাতির মেরুদন্ড বানানো এবং সেই শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি সম্ভব, যা দেশের উন্নয়নে সহায়ক হবে। তা অনুধাবন করে অধ্যাপক মার্শাল সমাজের সামগ্রিক বিকাশের ক্ষেত্রে শিক্ষার ভূমিকা অনস্বীকার্য বলে চিহ্নিত করেন।

C.P. Snow ১৯৯০ সনে তাঁর The Cultures and The Semitic Revelation গ্রন্থে বলেন “আমাদের শিক্ষিত হতে হবে, অন্যথায় ধ্বংস অনিবার্য।” বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে শিক্ষাই সকল উন্নয়নের মূল ভিত্তি। তাই জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত সার্বজনীন শিক্ষানীতি এক্ষেত্রে আলোকবর্তিকারূপে একটি শিক্ষিত জাতি বিনির্মানে ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস। তাই বলতে ইচ্ছে হয়–

শিক্ষা নিয়ে গড়বো দেশ
শেখ হাসিনার বাংলাদেশ।

 

লেখক: মোঃ আমির হোসেন (এম.এ, বি.এড)
                          প্রধান শিক্ষক
           নবীন চন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়
           কুলাউড়া,মৌলভীবাজার।

Comments

comments

পড়া হয়েছে 1004 বার
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
x