শামীম ভাইয়ের অকাল মৃত্যু, কিছু স্মৃতি ও কিছু কথা

নজরুল ইসলাম খান: | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৩:০৭ অপরাহ্ন
অ+ অ-

শামীম ভাই, আপনি এভাবে চলে গেলেন জানিনা আপনার মৃত্যু স্বাভাবিক না অস্বাভাবিক? হত্যা না দুর্ঘটনা? কারন গত কয়েক দিন যাবৎ সোশ্যাল মিডিয়ায় জনমনে যে সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে তাতে আমার মনেও অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আবার অনেক চিন্তা করেও আপনাকে হত্যা করার মত কোন মানুষ আছে বলেও মনে হয়নি।

কিছু প্রশ্নের উত্তর মেলাতে যে হিমশিম খাচ্ছি প্রতিনিয়ত, একজন মানুষকে যদি সন্ধ্যা বেলা হাতি আক্রমণ করে, আর নির্জন পাহাড়ে তার মৃতদেহ সারা রাত পড়ে থাকে, তবে কেন শিয়াল বা অন্যান্য প্রাণীরা একটি বারের জন্য ঐ মৃতদেহটা স্পর্শ করলো না। বনের শিয়াল-শকুনরা তো এতো ভদ্র হয়ে যাবার কথা না?



জানিনা ঐসব প্রশ্নের অবসান কবে হবে? তবে এইটুকুই বলতে পারি কুলাউড়ার হাজার হাজার মানুষের আহাজারি ও অশ্রুশিক্ত ভালবাসা দিয়ে আপনার শেষ বিদায় প্রমান করে ছাত্র যুবক ও সিনিয়রদের কাছে আপনি কত প্রিয়, কত আপনজন ছিলেন। জীবিত আজমল আলী শামীম ভাইয়ের চেয়ে মরহুম আজমল আলী শামীম ভাইয়ের জনপ্রিয়তা শতগুণযে বেশী তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

সত্যি ভাই এখনও আপনার মৃত্যুকে কেন জানি বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। মনে পড়ছে স্মৃতি বিজড়িত অনেক কিছু বড্ড মিস করব প্রায় প্রতি সপ্তাহে, আপনার একটি মিস কল অথবা ম্যাসেজ নজরুল ‌‌কল ব্যাক আর কি লিখবেন না ভাই? ফোন করে কে বলবে মা খালেদার মুক্তির জন্য আমরা কিছু করতে পারলাম না ঐসব আমি কার কাছ থেকে শুনতে পাব ভাই? কুলাউড়ার রাজপথের মিছিলের অগ্রভাগে কি আর তুমাকে দেখতে পাবনা? স্মৃতির পাতায় চোখ রাখলে দেখতে পাই ১৯৯৯ সালে কুলাউড়া উপজেলা ছাত্রদলের কাউন্সিলে আপনার পরিশ্রম, সাহস, মনোবল, পরামর্শ আমাকে সেদিন প্রত্যক্ষ ভোটে বিজয়ী করেছিল।

২০০০ সালে আমার বিয়েতে আপনার পরিশ্রম ছিল একজন দায়িত্বশীল বড় ভাইয়ের ভুমিকা। আজ বারবার সেই সব স্মৃতি বিজড়িত দিনগুলি হৃদয়ের আয়নায় নাড়া দিচ্ছে। আর কি আপনার বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে জুম্মার নামাজে মসজিদে যাবেন না? আর কি রাসনা আপু আর সিপু ভাইয়া বলে ডাকতে পারবে না? একমাত্র পুত্র ওয়াসির কয়দিন পর তার জন্মদিনে বেলুনের আবদার করবে না? ভাবী কি খাবার নিয়ে টেবিলে অপেক্ষা করবেনা? রাতে একটু দেরী হলে চাচী কি পথ চেয়ে থাকবেন না? ঐসব অনেক কিছু আজ আমার মনকে নাড়া দিচ্ছে।

শামীম ভাই দোয়া করি মহান আল্লাহ যেন আপনাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন আর আপনার পরিবার এবং আমার মত কুলাউড়ার হাজার হাজার শুভাকাংখীর মনে যে রক্তক্ষরন হচ্ছে তা যেন মহান আল্লাহ শান্তি দান করেন। সুষ্টু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন হোক আর কুলাউড়ার হাজার হাজার মানুষের প্রশ্নের অবসান হোক।

লেখক: সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক,কুলাউড়া উপজেলা ছাত্রদল ও বর্তমানে যুক্তরাজ্য প্রবাসী

Comments

comments

পড়া হয়েছে 558 বার
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত