ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারীরা

রাজনগরে কুরবানী ঈদের জন্য প্রস্তুত প্রায় ৯ হাজার গবাদীপশু

আহমদউর রহমান ইমরান, রাজনগর (মৌলভীবাজার) থেকে: | ১৭ অগাস্ট ২০১৮ | ৩:৫৯ অপরাহ্ন
অ+ অ-

মৌলভীবাজারের রাজনগরে দেশি গরুর চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশীয় পদ্ধতিতে উপজেলার চাষিরা গরু রিষ্টপুষ্ট করায় এই এলাকায় দেশি গরুর চাহিদা বেশি। তাই প্রতি বছর কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে উপজেলার খামারি ও কৃষকেরা গরু-ছাগল রিষ্টপুষ্টকরণে ব্যস্ত থাকেন। গত বছর ভারত থেকে রাজনগরে কোরবানির হাটে পশু কম আমদানি করায় দেশি গরুর চাহিদা ছিল বেশি।

খামারিরা ভালো লাভও করেছিল। তাই এ বছরও কোরবানিকে সামনে রেখে দেশি গরু ও ছাগল রিষ্টপুষ্টকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, এ বছরও ভারতীয় গরু না আসলে বেশ লাভবান হবে এমনটাই আশা তাদের।



উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিস সূত্র জানায়, প্রতি বছর রাজনগরের খামারিরা কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু রিষ্টপুষ্ট করে। গত বছর থেকে এই বছর তুলনামুলক ২০% বেশী গবাদীপশু রিষ্টপুষ্ট করছে উপজেলার খামারি ও কৃষকেরা। চলতি বছরে সঠিক পদ্ধতিতে প্রায় দেড় হাজার গবাদিপশু রিষ্টপুষ্ট করছে তারা। তবে এই বছর কুরবানীর জন্য প্রায় নয় হাজার গবাদীপশু প্রস্তুত করেছে উপজেলার বিভিন্ন খামারী ও সাধারণ কৃষকেরা। খামারি ছাড়াও উপজেলার সাধারণ কৃষকেরা বাড়তি আয়ের জন্য বাড়িতে একটি দুটি করে গরু রিষ্টপুষ্টকরণ করছে। বর্তমানে উপজেলায় রেজিস্ট্রেশনকৃত গবাদীপশুর খামার রয়েছে ৭৮টি।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজনগর উপলোর দাসপাড়া, দত্তগ্রাম, গ্রাম রাজনগর, ক্ষেমসহস্র, মজিদপুর, দাশটিলা, দেবীপুর, করিমপুর, রাজনগর চা বাগান, ইলাশপুর, কামারচাক, মহলাল, সোনাটিকি সহ বিভিন্ন গ্রামের কৃষক ও খামারিরা অন্যন্য এলাকার তুলনায় গবাদীপশু রিষ্টপুষ্টকরণ বেশি করছে।

উপজেলায় ৫৫ ভাগ গরু রিষ্টপুষ্টকরণ করছে খামারিরা আর বাকি ৪৫ ভাগ করছে সাধারণ কৃষকেরা। এ ছাড়া কোরবানিকে সামনে রেখে প্রতিটা কৃষকের গোয়াল ঘরে তাদের হালের গরু পাশাপাশি একটি দু’টি গরু রিষ্টপুষ্টকরণ করছে। উপজেলার খারপাড়া গ্রামের সৈয়দ সিজান জানান, সাধারণত কোরবানি ঈদের ৬-৭ মাস আগে দেশি প্রজাতির ১৫-২০ হাজার টাকার বাছুর ক্রয় করে পালন করতে থাকে। সারা বছর পড়ালেখার ফাঁকে ফাঁকে পতিত জমি থেকে ঘাস কেটে এনে খাওয়ানো হয় এবং ঈদের ২ মাস আগে খড়, খৈল, কুড়া, ও ভুসি খাওয়ানো হয়। বছরে যে খাবার প্রয়োজন অধিকাংশ খাবারই ঘাস। তাই খরচ কম। একটি বাছুর ১৫-২০ হাজার টাকায় ক্রয় করে ৬-৭ মাস পোষার পর ঈদের সময় আকার ভেদে ৫০-৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়। আকার ভেদে ৩০-৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করে। রাজনগর উপজেলায় প্রায় ৫-৬টি হাটে গরু বেচাকেনা হয়। স্থানীয় গরুর মালিকেরা এ সকল হাটে নগদ টাকায় গরু বিক্রয় করেন। হাটের মধ্যে টেংরা বাজার, মুন্সিবাজার এবং রাজনগর সদর বাজার সবচেয়ে বড় হয়। এখানে বিভিন্ন উপজেলার বেপারিরা এসে গরুর ক্রয় করে মৌলভীবাজার, সিলেট, ফেঞুগঞ্জ সহ বিভিন্ন জেলায় নিয়ে বিক্রয় করে। এ ছাড়া স্থানীয় বেপারিরা এলাকায় কৃষকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গরু ক্রয় করে তা বিভিন্ন জেলায় বিক্রয় করে। দাশপাড়া এলাকার কৃষক শফিক মিয়া জানান, চার মাস আগে ৮২ হাজার টাকা দিয়ে ৪টি এঁড়ে বাছুর কিনে লালন-পালন করছি। গরু গুলো বড় হয়েছে। আশা করছি কোরবানির ঈদে ভালো দামে বিক্রয় করতে পারব।

রাজনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো: লুৎফুর রহমান জানান, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে কুরবানীর জন্য গবাদীপশুর সংখ্যা প্রায় নয় হাজার। ইতিমধ্যে খামারীগণকে বিজ্ঞানসম্মত ভাবে রিষ্টপুষ্ট করার জন্য পরামর্শ প্রধান করা হয়েছে। খামারীরা যাতে অসাধু পদ্ধতিতে ষ্টেরয়েড বা গ্রোতহরমুন ব্যবহার না করে সে ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কুরবানীর হাটে জরুরী চিকিৎসার জন্য দুটি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

Comments

comments

পড়া হয়েছে 324 বার
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত