রক্তের বিনিময়ে ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ দ্বীন প্রচার করে গেছেন:হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী

বিশেষ প্রতিনধি,সংবাদমেইল২৪.কম | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ২:০৩ অপরাহ্ণ
অ+ অ-

দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট ময়মনসিংহ বিভাগের উদ্যোগে টাউন হল ময়মনসিংহ এর তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘উপমহাদেশে আউলিয়ায়ে কিরামের অবদান’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহ’র মুহতারাম সভাপতি হযরত আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী।

তিনি বলেন, সৈয়দপুরের ময়দানে আল্লামা ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী (র.) আপন শরীরের তাজা রক্ত বিলিয়ে দিয়েছেন। তিনি কোনো সম্মান বা সম্পদের জন্য রক্ত দেন নি। তিনি তার মতের ওপর অটল ছিলেন। তাঁর মত হলো নবী আমাদের মতো মানুষ নয়, তারা বলে নবী আমাদের মতো সাধারণ মানুষ, তিনি বলেছেন কোরআন শরীফের একটি হরফ দ্বোয়াদ হবে, তারা বলছে যোয়া।

ইহ ও পরকালীন মুক্তির জন্য যুগে যুগে নবী ও রাসুলগণের আগমন ঘটেছিল এ ধরাধামে। নবী মোহাম্মদ (সা:) আসার মধ্য দিয়ে নবী-রাসুল আসার পথ বন্ধ হয়ে যায়। আর কোন নবী বা রাসুল আসবেন না। কিন্তু আল্লাহর দ্বীন প্রচারে ও পথহারা মানুষকে সঠিক পথের সন্ধান দিতে নবীদের উত্তারাধীকার আওলিয়ায়ে কেরামগণ যুগে যুগে আগমন করবেন। ইয়েমেনের অধিবাসী হযরত শাহজালাল মুজাররাদে ইয়ামনী (রাহ.) ইসলাম প্রচারে আসলেন সিলেট। তাঁর পবিত্র পদধুলি পেয়ে সিলেট হয়ে গেল আধ্যাত্মিক রাজধানী। সিলেটের জমিনে হযরত শাহজালাল (রাহ.)-এর স্বার্থক উত্তর পুরুষ হচ্ছেন জামানার মুজাদ্দিদ শামছুল উলামা আল্লামা মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ চৌধুরী ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী (রাহ.)। তিনি সিরাতে-সুরতে ছিলেন একজন ইনসানে কামিল। তিনি যেমনি ইসলামের একজন সফল খাদেম ছিলেন তেমনি সমাজ সংস্কারক ও মানবতাবাদি ছিলেন। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের দিশারী ছিলেন। আল্লামা ফুলতলী (রাহ.) হযরত শাহজালাল (রাহ.)’র সফরসঙ্গী ৩৬০ আওলিয়ার অন্যতম হযরত শাহ কামাল (রাহ.)’র বংশধর। তিনি আমলে সালিহের মাধ্যমে তাযকিয়ায়ে নাফসের মেহনতে উচ্চাসনে আসীন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন।
“তার কর্মজীবন ছিল বহুমাত্রীক ও সৃজনশীল। সমকালীন সমাজ ও জাতীয় জীবনে তিনি ছিলেন এমন একজন ব্যতিক্রমধর্মী বহুমাত্রীক প্রতিভা যিনি ধর্ম, আধ্যাত্মিকতা, সাহিত্য, সমাজচিন্তা. রাষ্ট্রনীতি, নৈতিকতা, জীবন ঐতিহ্য, বিজ্ঞান, শিক্ষা ও ইসলামী জ্ঞান সাধনার প্রতিটি ক্ষেত্রে ছিলেন এক পরিপূর্ণ মহীরূহ ও অনুপম জীবনাদর্শের অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব।” ছাত্র জীবনে তিনি ছিলেন মেধাবী।

তাঁর আপাদমস্তক ছিল রাসূল (সাঃ) এর আদর্শে উদ্ভাসিত। বিস্ময়কর প্রতিভার অধিকারী প্রত্যেক নির্যাতিত, নিপীড়িত, অবহেলিত এবং মজলুম মানুষের পক্ষে সু-উচ্চ কন্ঠস্বর। তিনি ছিলেন জালিম ও রাসূলে পাক (সাঃ) এর শত্রুদের বিরুদ্ধে সোচ্চার। বিশেষ করে তাগুতের বিরুদ্ধে তাঁর সময়োপযোগী এবং সাহসী কন্ঠ ছিল ধারালো তরবারির চেয়েও কঠোর। তাঁর আন্দোলনের ফসল হচ্ছে ফাযিল (বি,এ) ও কামিলের (মাষ্টার্স) মান ও ‘আরবী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।

তার অন্যতম খেদমত হলো ইলমে কিরাতের। তিনি ‘দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাষ্ট’ নামে একটি বোর্ড গঠন করেন। তিনি এ ট্রাষ্টে তার সম্পত্তির বিশাল একটি অংশ (৩৩ একর) ভূমি দান করেন। এ ট্রাষ্টের মাধ্যমে দেশ ছাড়িয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে ইলমে কিরাতের শিক্ষা।

তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে সৈয়দপুরে বাতিলপন্থীদের হাতে রক্তেরঞ্জিত হন। এরপরও ফুলতলী (রাহঃ) কে রাসূল (সাঃ)-এর আদর্শ হতে একবিন্দু পরিমাণ বিচ্যুত করতে পারেনি। আজও তাঁর রেখে যাওয়া চিন্তাচেতনার বাইরে গিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করার দুঃসাহস, নোংরা রাজনীতি অথবা আত্মীয়তার সুযোগ নিয়ে হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার অপচেষ্টা অবশ্যই সফল হবে না।

তরিকতের দিক থেকে তিনি উচ্চ মার্গের একজন আধ্যাত্মিক ব্যক্তি ছিলেন।
ময়মনসিংহে এ আলোচনা সভায় আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী আরো বলেন, দিনে দিনে ঈমানদারদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। মানবতা উঠে যাচ্ছে। মনে রাখবেন, টুপি-পাঞ্জাবীই ইসলামের নিশান নয়, ইসলামের প্রকৃত নিশান হল উত্তম আখলাক। তাই, শুধু নামাজ দিয়ে পরকালে বাঁচা যাবে না। বাঁচতে হলে ঈমানদার হতে হবে। তিনি আরো বলেন, ডিজিটালের কারনে এখন ফজরের নামাজে মুসল্লী কমে গেছে। সবাই এখন ফেইসবুকে ব্যস্ত। যখন দেশের পুলিশের হাতে ডিজিটাল অস্ত্র ও যন্ত্রপাতি থাকবে। মানুষকে প্রকৃত নিরাপত্তা দিতে পারবে, তখন দেশ ডিজিটাল হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গত শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহ নগরীর টাউন হল অডিটরিয়ামে উপমহাদেশে ইসলাম প্রচারে আউলিয়া কেরামগণের অবদান র্শীষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় দারুল ক্বিরাত মজিদিয়ার আয়োজনে সংগঠনের অডিটর মাওলানা লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের মহাসচিব মাওলানা শাব্বীর আহামদ মোমতাজী।
এ সময় মাওলানা শাব্বীর আহামদ মোমতাজী বলেন, জমিয়াতুল মোদার্রেছীন আউলিয়া ক্বেরামগণের সমর্থনে কাজ করছে। এবং ঐক্যবদ্ধা ভাবে সুন্দর সমাজ গঠনেও বদ্ধপরিকর। তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার মাদরাসা শিক্ষায় আলেম সমাজের অধিকাংশ দাবি ইতিমধ্যে পূরণ করেছে। বাকিগুলোও পর্যায়ক্রমে পূরণ কবে। জমিয়াতুল মোদার্রেছীন সে লক্ষ্যে সব সময়ই সচেষ্ট রয়েছে।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, অ্যাড.আনিছুর রহমান খান, ড.ওমর ইবনে হাসান, মাওলানা শহীদুল্লাহ পাঠান, মাওলানা ছাইদুর রহমান, মাওলানা কুতুব উদ্দিন আনসারী, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, প্রিন্সিপাল মাওলানা ড. ইদ্রিস খান, অ্যাড.আওরঙ্গজেব বেলাল প্রমূখ।

এর আগে দারুল ক্বিরাত ময়মনসিংহ বিভাগের আহবায়ক সৈয়দ তোফায়েল উদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি ড. মো: আক্কাছ উদ্দিন ভূইয়া।

Comments

comments

পড়া হয়েছে 506 বার
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত