ভাড়া ফাঁকি দিয়ে সরকারি বাসা ব্যবহার করছেন কুলাউড়া এলজিইডি অফিসার!

স্টাফ রিপোর্টার,সংবাদমেইল২৪.কম | ১৬ আগস্ট ২০১৮ | ৯:২৮ অপরাহ্ণ
অ+ অ-

ভাড়া ফাঁকি দিয়ে দেড় বছর ধরে সরকারি বাসা ব্যবহার করছেন কুলাউড়া উপজেলা এলজিইডি অফিসার ইসতিয়াক হাসান। দেড় বছরে বাসা ভাড়া বাবত সরকার ২ লাখ ২ হাজার ৩২০ টাকা থেকে বঞ্চিত রয়েছে ।

সরজমিন উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় ও উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা এলজিইডি অফিসার ইসতিয়াক হাসান ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি কুলাউড়ায় যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে তিনি উপজেলা পরিষদের আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ‘রজনীগন্ধা’ কোয়ার্টারের ২য় তলায় একটি ফ্লাটে উঠেন। উপজেলা পরিষদের বাসা বরাদ্দ কমিটির সভাপতি সংশ্লিষ্ট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যসচিব এলজিইডির প্রকৌশলী। নিয়ম অনুযায়ী, বাসা বরাদ্দ পেতে হলে সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে আবেদন করতে হয়। বরাদ্দ পাওয়ার পর নির্ধারীত এলেটম্যান্ট বাসায় উঠতে হয়। এবং বাসা বরাদ্দের চিঠি উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কাছে দেয়ার কথা থাকলেও ওই এলজিইডি অফিসার তা করেননি।

জানা যায়, তাঁর বর্তমান মাসিক বেতন ২৮ হাজার ১০০ টাকা। সেই বেতনের ৪০ শতাংশ বাসা ভাড়া হিসেবে কর্তন হওয়ার কথা। সে হিসাবে উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস বাসা ভাড়া বাবত তার কাছ থেকে প্রতি মাসে ১১ হাজার ২৪০ টাকা করে কর্তন করার কথা। কিন্তু উপজেলা এলজিইডি অফিসার ইসতিয়াক হাসান দেড় বছর থেকে বাসা ভাড়া না দেয়ায় সরকার ২ লাখ ২ হাজার ৩২০ টাকা বঞ্চিত হয়েছে।

উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এখলাছ কোরেশী জানান,বাসা বরাদ্দের চিঠি না পাওয়া পর্যন্ত তাঁদের পক্ষ থেকে ভাড়া কর্তনের কোনো নিয়ম নেই। তবে সম্প্রতি বিষয়টি জেনে তিনি উপজেলা এলজিইডি অফিসারের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন চলতি আগস্ট মাস থেকে বাসা ভাড়া কেটে রাখবেন।

এব্যাপারে এলজিইডি অফিসার ইসতিয়াক হাসান বলেন, চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে আমার বদলির আদেশ আসে। পরে আবার তা বাতিল করে কুলাউড়ায় বহাল রাখা হয়। এ কারণে ঝামেলায় পড়ায় বাসা বরাদ্দ নেওয়াসহ ভাড়া পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি।

বাসা বরাদ্দ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আসম কামরুল ইসলাম বলেন,বিষয়টি তিনি আগে জানতেন না। বিষয়টি শোনার পর ওই কর্মকর্তাকে ভাড়া পরিশোধ করার তাগিদ দিয়েছেন।

Comments

comments

পড়া হয়েছে 540 বার
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত