পেঁপে চাষে সফল বরমচালের ইমতিয়াজ

জিয়াউল হক , সংবাদমেইল২৪.কম | ০৪ জুন ২০১৮ | ৫:১৪ অপরাহ্ণ
অ+ অ-

পেঁপে চাষে সফল হয়েছেন বরমচালের ইমতিয়াজ। ফল ও সবজি হিসেবে পেঁপে এখন বেশ জনপ্রিয়। শুধু পরিবারের চাহিদা মেটানোর জন্য একটা সময় বাড়ির আঙিনায় চাষ করা হলেও এখন প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় বাণিজ্যিক ভাবে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পেঁপে চাষ শুরু হয়েছে। পেঁপে চাষ করে আশানুরুপ লাভবান হওয়ায় অনেকেই ঝুঁকছেন পেঁপে চাষে। তারাই ধারাবাহিকতায় ১বিঘা জমির উপর গড়ে তোলেছেন পেঁপের বাগান।

জেলার কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের নন্দনগর আকিলপুর গ্রামের মো. সিরাজুল ইসলাম ও আশ্বাবুন নেছা খাতুন দম্পতির ছেলে মো. তৌফিকুল ইসলাম ইমতিয়াজ গড়ে তুলেছেন এই পেঁপে বাগান। তাঁর বাগানে থাইলেন্ডের রেডলেডি জাতের পেঁপে চারা লাগানো হয়েছে। রেডলেডি জাতের পেঁপে শতকরা ৯৫ ভাগ গাছ স্ত্রী হওয়ায়, ফল উৎপাদন বেশি হয়।

১ বিঘা জমিতে ২ বছর পর্যন্ত ফল উৎপাদন করা যায়। এবং তাতে প্রায় দেড় লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। একটি পেঁপে গাছ থেকে দুই বছরের বেশি সময় পেঁপে উৎপাদন করা যায়। যা বিক্রি করে প্রায় ৩/৪ লাখ টাকা উপার্জন করা সম্ভব। ইমতিয়াজের সফলতা দেখে গ্রামের আরো অনেকেই পেঁপে বাগান করার আগ্রহী হচ্ছেন বলে মনে করছেন এলাকার অনেকে।

চারা রোপেনের কয়েক মাস থেকে পেঁপে বিক্রী করা যায়। পেঁপে কাঁচা ও পাঁকা দুই ভাবেই বিক্রী করা যায়। তবে পাঁকা পেঁপেতে দাম ভালো পাওয়া যায়, লাভ বেশি হয়। তার এ বাগানে পেঁপে ছাড়াও আরো রয়েছে মিষ্টি লাউ, চায়নিজ লেটুস পাতা, বারো মাসি (সুরভী) জাতের বেগুন, সীন্ধু জাতের কাঁচা মরিচ, নাগা মরিচ, মিষ্টি মরিচ ক্যাপসি ক্যাম্প, কচু, পেঁপে গাছের সারির মধ্যে মধ্যে এসব বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ করেছেন। যা থেকে অল্প পরিশ্রম ও অল্প খরছে ভালো উপার্জন করছেন। রয়েছে কাঁচ কলা, চাম্পা কলা এবং মালটার গাছ। এমন কি এখন নিয়মিত ইমতিয়াজ নিজের বাগানের পাঁকা পেঁপের বীজ দিয়ে চারা উৎপাদন করছেন বাণ্যিজিক ভাবে।

ইমতিয়াজ জানান, আমি যখন একাউন্টিং বিষয়ে অনার্সে লেখা-পড়া অবস্থায় ইংল্যান্ডে পাড়ি জমাই। কিন্তু ইংল্যান্ডে থাকা হলো না বেশি দিন। কারণ প্রচুর পরিশ্রম করে যা আয় হতো তা যতেষ্ট ছিলো না, তাই দেশে ফিরে এসে, নিজের মেধা মনন কে কাজে লাগিয়ে কিছু করার চিন্তা করতে থাকি। এক সময় এই পেঁপে বাগান করার সিদ্ধান্ত নেই। এখন আমি পেঁপে বাগান করে সফল হয়েছি। আমার বাগানে আরো দুই জন ব্যাক্তির কর্মসংস্থান হয়েছে। আশা করছি আগামী দুই বছরের বিনিয়োগের চেয়ে অনেক গুন বেশি উপার্জন করতে সক্ষম হবো।

তিনি আরো বলেন, ধীরে ধীরে আরো কয়েক বিঘা জমিতে পেঁপে চাষের পরিকল্পনা রয়েছে আমার। মাকড়সা, ফুল ছিদ্রকারী পোকা ও ছত্রাক ছাড়া পেঁপে বাগানে তেমন কোনো সমস্যা দেখা যায় না। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে পুষ্টিমান সমৃদ্ধ পেঁপে চাষে ভাগ্য বদলে ফেলা যায়। পেঁপে চাষে অর্থনৈতিক ভাবে সরকারি সহযোগিতা পেলে দেশের অনেক বেকার সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। তিনি মনে করেন, শিক্ষিত বেকার যুবকরা যদি চাষে অগ্রসর হয় তাহলে তারাও লাভবান হবে।

বরমচাল ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান ইসহাক চৌধুরী ইমরান জানান, ইমতিয়াজ শিক্ষিত ছেলে। সে প্রবাস থেকে দেশে ফিরে এসে পেঁপে চাষ করে সফলতা পেয়েছে। তার চাষ দেখে আশপাশের এলাকার অনেকের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। তার সাফল্য দেখে গ্রামের অনেকেই পেঁপে চাষ করার পরিকল্পনা করছে।

রেডলেডি জাতের পেঁপে অনেক সুস্বাধু ও মিষ্টি হয়। যার ফলে বাজারে এ পেঁপের চাহিদা প্রচুর। চাহিদা ভালো থাকায় বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা ছুটে আসছেন ইমতিয়াজের পেঁপে বাগানে। এখান থেকে পেঁপে ক্রয় করে সিলেট, ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছেন।

পেঁঁপেতে প্রচুর পুষ্টি উপাদান রয়েছে। যা মানুষের শরীরের পুষ্টি উপাদান পূরণ করতে সহায়তা করে। পেঁপে চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে সরকারী বেসরকারী ভাবে উন্নত প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা দেয়া হলে, দেশের বাজারের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে পেঁপে রপ্তানি করে ব্যাপক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভবকর হবে।

সংবাদমেইল২৪/জেএইচজে

Comments

comments

পড়া হয়েছে 835 বার
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত