পরিবহণ শ্রমিক ধর্মঘটে অচল রাজনগর, জনসাধারণের চরম দূর্ভোগ

আহমদউর রহমান ইমরান,রাজনগর (মৌলভীবাজার) থেকে : | ২৯ অক্টোবর ২০১৮ | ৭:১৪ অপরাহ্ণ
অ+ অ-

পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার সড়ক সহ এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্টান। এতে এলাকার জনসাধারণ চরম দূর্ভোগের স্বীকার।

রোববার থেকে সারা দেশে শুরু হয়েছে টানা ৪৮ ঘন্টার পরিবহন ধর্মঘট। ধর্মঘটের কারণে উপজেলা সদর সড়কসহ সবকটি সড়কের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্তব্ধ হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এতে উপজেলার জন সাধারণের সীমাহীন ক্ষতির সম্মূখীন হচ্ছেন।

এদিকে রোববার সকাল থেকে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি, হঠাৎ ঝেকে বসা শীতের মধ্যে যান চলাচল বন্ধ থাকায় সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় সাধারণ মানুষদের। কাঙ্খিত পরিবহন না পেয়ে জরুরী প্রয়োজনে গন্তব্যে ছুটতে দেখা গেছে পায়ে হেঁটে। ধর্মঘটে চলছে অনার্স ১ম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা। এতে পরীক্ষার্থীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। আবার অনেকে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন ধর্মঘটের কারণে। সড়কে গাড়ি না চলায় অনেক শিক্ষার্থীকে বৃষ্টিতে ভিজে ১৬ কিলোমিটার পথ হেঁটে হেঁটে আবার কেউ কেউ রিকশা করে গিয়ে মৌলভীবাজার কলেজে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। আবার অনেক শিক্ষার্থীকে মোটরবাইকে চড়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে দেখা যায়। এদিকে সকল ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছেন। এরকম ধর্মঘটের নামে নৈরাজ্যের প্রতিবাদ করেন এবং সরকারকে এর বিহীত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’ রাজনগরের সভাপতি আহমদউর রহমান ইমরান।

রোববার সকাল থেকে দূরপাল্লার কোন যানবাহন চলতে দেখা যায়নি। এমনকি অভ্যন্তরীন রোড গুলোতে বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। শ্রমিকদের বাধার কারণে বন্ধ আছে তিন চাকার রিক্সা পর্যন্ত। সড়ক পরিবহণ আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধন ও ৮ দফা দাবি আদায়ে সারাদেশে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহণ ধর্মঘটের ফলে অফিসগামী কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পেশাজিবী সহ সাধারণ মানুষ পড়েছেন চরম দূর্ভোগে। উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও বাজারে প্রতিদিন যানজট লেগেই থাকতো। তাছাড়া মহাসড়কে গাড়ির মিছিল ছিলো সবসময়। পরিবহণ ধর্মঘটে এইসব এলাকায় কোন ধরণের গাড়ি চলতে দেখা যায়নি। পুরো উপজেলা ঘুরে একই চিত্র দেখা যায়। কোথাও কোন ধরণের যানবাহন নেই। লোকজন প্রয়োজনীয় কাজে বৃষ্টি উপেক্ষা করে হেঁটে হেঁটে গন্তব্যস্থলে যাচ্ছে।

সরেজমিন দেখা যায় রোববার সকাল থেকে রাজনগরের বিভিন্ন পয়েন্টে শ্রমিকরা গাড়ি আটকিয়ে চালকদের জবাবদিহিতা করছে। ছোট ছোট গাড়ি থেকে শুরু করে এ্যাম্বুলেন্সসহ সকল ধরণের গাড়ি চলাচল করতে দিচ্ছেনা। পরিবহণ শ্রমিকরা বলছেন, জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ পাশ হয়েছে। আমরা এই আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধনের জন্য সরকারকে জানিয়েছি এবং সরকারের কাছে ৮ দফা দাবি জানিয়েছি। এ দাবি মেনে নিলে আমরা ধর্মঘট তুলে নেব। অন্যথায় পরবর্তীতে লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হবে।

Comments

comments

পড়া হয়েছে 186 বার
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত