নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন হতে হবে

সংবাদমেইল ডেস্ক | ২৬ নভেম্বর ২০১৭ | ১১:৪০ অপরাহ্ন
অ+ অ-

আগামী নির্বাচন আওয়ামী লীগ নয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে বলে দাবি করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার সন্ধ্যায় এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, এই সরকারকে কেউ বিশ্বাস করে না। আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন বিনাভোটে। ২০১৪ সালের যে নির্বাচনের নাটক হয়েছিলো সেখানে ১৫৪টা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করেছেন। সরকার তো সেইদিন করেছেন। ভোটে ৫% জনগণও ভোট দিতে যায়নি। তাহলে সরকারটা জনগণের নয়, আওয়ামী লীগের।

তিনি মনে করেন, আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ প্রকৃত প্রতিনিধিদের বেছে নিয়ে একটা প্রতিনিধিত্বমূলক সংসদ গঠন করবে। সেটা সকলে কাছে গ্রহণযোগ্য হবে, সবার অংশগ্রহণে হবে।



সংবিধানের দোহাই দিয়ে কোনো লাভ হবে না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারকে বলতে চাই, এই ‘বো বো’ করে লাভ হবে না। সময় আপনাদের শেষ, এখন পরকালের চিন্তা করুন।

তিনি বলেন, আমরা খুব পরিষ্কার করে বলেছি দেশনেত্রী বলেছেন, আমরা এদেশে শান্তির রাজনীতি চাই, হিংসা নয়, প্রতিহিংসা নয়, আমরা রিকসিলেশনের রাজনীতি চাই। সেই দিকে আসুন, আলাপ-আলোচনা করুন, সমঝোতা করুন। একটা সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ-গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দিকে যান। এলোমেলো করে আর ঘুরে লাভ হবে না। এটা বৃথা।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগের পরও প্রধান বিচারপতি পদে কাউকে নিয়োগ না করায় সাংবিধানিক সংকট তৈরি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা হচ্ছে, কোনো কারণে যদি প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব করতে না পারেন অথবা পদত্যাগ করেন তাহলে সঙ্গে সঙ্গে প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ করতে হবে। সেটা আপনারা করেননি।

মির্জা ফখরুল অর্থনীতিতে সংকট সৃষ্টি করার জন্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, দেশের অর্থনীতি আজকে তাসের ঘরের মতো, একটা ফলস ফাউন্ডেশনের ওপর দাঁড় করিয়েছে মিথ্যা কথা বলে। বলে এখানে(বাংলাদেশে) সাংঘাতিক রকম উন্নয়ন হচ্ছে, উন্নয়নের রোল মডেল। রোল মডেলের অবস্থা এমন যে প্রতিদিন খবরের কাগজে দেখবেন ব্যাংকগুলো কাহিল হয়ে পড়েছে। যেকোনোদিন ব্যাংকিং ব্যবস্থা ফেল করবে, কলাপস করবে। ব্যাংকগুলো ফোকলা করে ফেলা হয়েছে।”

উন্নয়নের নামে ‘মেগা প্রকল্পের নামে মেগা লুট’ করছে বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের স্বার্থ না দেখে সরকার মিয়ানমারের কাছে বিক্রি হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, কী এমন কম্পালশন হলো যে, আপনি আপনার বাংলাদেশের স্বার্থটাকে বুঝে না নিয়ে মিয়ানমারের স্বার্থের কাছে নিজেকে বিক্রি করে দিলেন। চাপটা কোথায় হলো? আসল ঘটনাটা কোথায়? জাতির সামনে বলা উচিৎ।

তিনি বলেন, আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে, লজ্জ্বার সঙ্গে আমাদের বলতে হয় এই সরকারের কোনো রকমের যে আত্ম সন্মানবোধ পর্যন্ত নেই।

কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৩তম জন্মদিন উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। আলোচনা সভার পর জন্মদিন উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন বিএনপি মহাসচিব।

সংগঠনের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েলের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান, গোলাম সারোয়ার, ইয়াসীন আলী, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, সাদরেজ জামান, মহানগর দক্ষিনের এস এম জিলানী, রফিক হাওলাদার, উত্তরের ফখরুল ইসলাম রবিন, রেজাউল হোসেন রিয়াজ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Comments

comments

পড়া হয়েছে 420 বার
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত