দেশের প্রায় ৬৫ হাজার স্কুলের দেড় কোটি ক্ষুদে সোনামণির কাছে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি

বিশেষ প্রতিনিধি,সংবাদমেইল২৪.কম | ১৬ মার্চ ২০২০ | ৫:২৭ অপরাহ্ণ
অ+ অ-

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী আগামী ১৭ মার্চ। এ দিনটি জাতীয় শিশু দিবস হিসেবেও পালিত হয়ে আসছে। প্রতিবারের তুলনায় এবার এ দিনটিতে ভিন্নমাত্রা যুক্ত হয়েছে। জন্মের একশ বছর উপলক্ষ্যে ওইদিন দেশজুড়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হবে জন্মশতবার্ষিকী।

এ লক্ষ্যে ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে ২৬ মার্চ ২০২১ সয়কালকে সরকার ‘মুজিববর্ষ’ হিসাবে ঘোষণা করে বর্ষব্যাপী বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ফলে জন্মশতবার্ষিকীর দিন থেকে গণনা শুরু হচ্ছে ‘মুজিববর্ষ’। আর এ উপলক্ষে দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় দেড় কোটি ক্ষুদে সোনামণিদের প্রতি চিঠি লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই চিঠি মুদ্রণ করে সব শিক্ষার্থীদের নিকট পৌঁছানো এবং জন্মশত বার্ষিকীর দিন ১৭মার্চ সকাল ১১টায় সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সমাবেশের মাধ্যমে একযোগে ছোট্ট সোনামণিদের দিয়ে পাঠকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে (ডিপিই) নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।



জানতে চাইলে এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো: আকরাম-আল-হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে প্রাথমিকের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের কাছে একটি আবেগঘন চিঠি লিখেছেন। সেটি আমরা দেশের প্রায় ৬৫ হাজার স্কুলের ১ কোটি ৬২ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা নিয়েছি। পাশাপাশি সমাবেশের মাধ্যমে চিঠির লেখা কথাগুলো শিক্ষার্থীদের দিয়ে পাঠ করানোর নির্দেশ দিয়েছি। এতে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা জানতে পারবে তিনি কেমন মহান নেতা ছিলেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর তার চিঠিতে লিখেছেন, তোমরা মন দিয়ে পড়ালেখা করবে, মানুষের মতো মানুষ হয়ে দেশ ও মানুষের সেবা করবে। তিনি আরও লিখিছেন, অধিকারহারা দুঃখী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ দ্বিধা করেননি। এই বঙ্গভূমির বঙ্গ-সন্তানদের একান্ত আপনজন হয়ে উঠেছিলেন- তাই তিনি ‘বঙ্গবন্ধু’।

চিঠিতে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যা লিখেছেন : শিশুদের প্রতি দেয়া চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমার শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা নিও। তোমার বাবা-মাকে আমার সালাম ও ভাইবোনদের স্নেহ পৌঁছে দিও। পাড়া-প্রতিবেশীদের প্রতি শুভেচ্ছা রইলো। আজ ১৭ মার্চ। ১৯২০ সালের এদিনে বাংলার মাটিতে জন্ম নিয়েছিলেন এক মহাপুরুষ।

তিনি আমার পিতা, শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশ নামের এই দেশটি তিনি উপহার দিয়েছেন। দিয়েছেন বাঙালিকে একটি জাতি হিসেবে আত্মপরিচয়ের সুযোগ। তাইতো তিনি আমাদের জাতির পিতা। দুঃখী মানুষদের ক্ষুধা-দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিতে নিজের জীবনের সব সুখ-আরাম বিসর্জন দিয়ে তিনি সংগ্রাম করেছেন। বারবার কারাবরণ করেছেন। মানুষের দুঃখ-কষ্ট তাঁকে ব্যথিত করতো। অধিকারহারা দুঃখী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে তিনি দ্বিধা করেননি। এই বঙ্গভূমির বঙ্গ-সন্তানদের একান্ত আপনজন হয়ে উঠেছিলেন- তাই তিনি ‘বঙ্গবন্ধু’।

২০২০ সালে আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছি। আজ শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের অনেক দেশ এই জন্মশতবার্ষিকী অর্থাৎ মুজিববর্ষ’ উদযাপন করছে। সকলকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। ঘাতকের নির্মম বুলেট কেড়ে নিয়েছে জাতির পিতাকে। তাঁর নাম বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে চেষ্টা করেছে। কিন্তু ওরা পারেনি। ঘাতকেরা বুঝতে পারেনি বঙ্গবন্ধুর রক্ত ৩২ নম্বর বাড়ির সিঁড়ি বেয়ে-বেয়ে ছড়িয়ে গেছে সারা বাংলাদেশে। জন্ম দিয়েছে কোটি কোটি মুজিবের। তাই আজ জেগে উঠেছে বাংলাদেশের মানুষ সত্যের সন্ধানে। ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। সত্যকে মিথ্যা দিয়ে দাবিয়ে রাখা যায় না। আজ শুধু বাংলাদেশ নয়, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। বাংলাদেশকে বিশ্ব চিনে নিয়েছে তাঁরই ত্যাগের মহিমায়।

জাতির পিতার কাছে আমাদের অঙ্গীকার, তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা আমরা গড়বোই। আর সেদিন বেশি দূরে নয়। পিতা ঘুমিয়ে আছেন টুঙ্গিপাড়ার সবুজ ছায়াঘেরা মাটিতে পিতামাতার কোলের কাছে। তিনি শান্তিতে ঘুমান। তাঁর বাংলাদেশ অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আমরা জেগে রইবো তাঁর আদর্শ বুকে নিয়ে। জেগে থাকবে মানুষ- প্রজন্মের পর প্রজন্ম- তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশে। জাতির পিতার দেয়া পতাকা সমুন্নত থাকবে চিরদিন। তোমরা মন দিয়ে পড়ালেখা করবে, মানুষের মতো মানুষ হয়ে দেশ ও মানুষের সেবা করবে। জয় বাংলার জয়, জয় মুজিবের জয়, জয় বঙ্গবন্ধুর জয়।’

Comments

comments

পড়া হয়েছে 190 বার
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
x