দিরাই পৌরসভার নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ইভিএমে ভোট, ৬১ প্রার্থী

দিরাই প্রতিনিধিঃ | ০৪ ডিসেম্বর ২০২০ | ৮:৩৮ অপরাহ্ণ
অ+ অ-

আগামী ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দিরাই পৌরসভা নির্বাচন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গত ১ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখে পৌর নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেন ৮ মেয়র, ৪০ কাউন্সিলর, ১৩ নারী কাউন্সিলর সহ মোট ৬১ প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী।

বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে জমাদানকারী ৬১ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার।



এরই মধ্যে ভোটারদের মন জয় করতে প্রার্থীরা দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন। এবারের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন বর্তমান মেয়র স্বতন্ত্র প্রার্থী মোশাররফ মিয়া, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বিশ্বজিৎ রায় বিশ্ব, বিএনপি মনোনীত ইকবাল হোসেন চৌধুরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম মনোনীত হাফিজ মাওলানা লোকমান আহমদ, জাতীয় পার্টি মনোনীত অনন্ত মল্লিক,
স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল কাইয়ূম, শফিকুল ইসলাম শফিক, রশীদ মিয়া। এছাড়াও পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ৪০ জন কাউন্সিলর পদে ও ১৩ জন সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।

এদিকে প্রথমবারের মতো দিরাই পৌরসভায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)-এর মাধ্যমে ভোট গ্রহণ হবে। ভোটাররা এই যন্ত্রটির সঙ্গে ততটা পরিচিত নয়।

উপজেলা নির্বাচন অফিসার ইমদাদুল হক জানান, পৌরসভা এলাকায় বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে ভোটারদের ইভিএমে ভোট দিতে আগ্রহী করে তোলার চেষ্টা করা হবে। ২৮ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮ টা থেকে টানা বিকাল ৪টা পর্যন্ত। ভোট কেন্দ্রে একজন ভোটার আসার পর কেন্দ্রের নির্ধারিত কক্ষে প্রিজাইডিং অফিসার প্রথমে ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্টকার্ড, আঙুলের ছাপ ও ভোটার নম্বর যাচাই করে ভোটার হিসেবে নিশ্চিত করবেন। এ সময় ভোটারের ছবি ও তথ্য একটি মনিটরে প্রদর্শিত হবে। যাতে সকল প্রার্থীর এজেন্টরা ভোটারের পরিচয় দেখতে পারেন। ভোটারকে শনাক্তকরণের পর গোপন কক্ষে থাকা ইভিএম মেশিনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সচল হবে। যতগুলো পদের জন্য ভোট প্রদান করতে হবে কক্ষের ভেতরে ঠিক ততগুলো ডিজিটাল ব্যালট ইউনিট রাখা থাকবে। এই ইউনিটে প্রার্থীদের প্রতীক বাম পাশে এবং নাম ডান পাশে দেখা যাবে। ইভিএমে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে তার প্রতীকের বাম পাশের সাদা বাটনে চাপ দিতে হবে। এ সময় প্রতীকের পাশে বাতি জ্বলে উঠবে। ভোট নিশ্চিত করতে ডান পাশের সবুজ বাটনে চাপ দিতে হবে। একই প্রক্রিয়ায় অন্যান্য পদের জন্যও ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। কোনও কারণে যদি ভোটার যদি ভুল প্রতীক শনাক্ত করেন তাহলে সবুজ বাটন চাপ দেওয়ার আগে তা সংশোধন করতে পারবেন। ভুল সংশোধনের আগে ভোটারকে ডান পাশের লাল বাটনে চাপ দিতে হবে। এতে ভুল করে দেওয়া পূর্বের ভোটটি বাতিল হয়ে যাবে। ফলে নতুন করে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে। সঠিকভাবে পুনরায় প্রতীকের পাশের বাটনে চাপ দিয়ে সবুজ বাটনে চাপ দিলে ভোট প্রক্রিয়া শেষ হবে।

পরীক্ষামূলকভাবে ইভিএমে ভোট দেওয়ার নিয়ম বুঝিয়ে দেওয়া হবে সবুজ বাটন চাপ দেওয়ার পর ভোট দেওয়া প্রতীক ছাড়া বাকি সকল প্রতীক অদৃশ্য হয়ে যাবে। এতে ভোটার নিশ্চিত হবেন যে, ওই প্রতীকে তার ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে অবশ্যই কেন্দ্রে আসার আগে ভোটারকে তার ভোটটি কোন বুথে পড়েছে সেটি জেনে আসা ভালো। তাহলে আরও সহজেই ভোট দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানান নির্বাচন অফিসার।

Comments

comments

পড়া হয়েছে 245 বার
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
x