চলতি মেয়াদের শেষ ঈদে হাজিপুর ইউপি চেয়ারম্যান বাচ্চুর দুটি কথা

বিজ্ঞপ্তি,সংবাদমেইল২৪.কম | ৩১ জুলাই ২০২০ | ৯:১৫ অপরাহ্ণ
অ+ অ-

প্রিয় ইউনিয়নবাসী
আসসালামু আলাইকুম /আদাব।
অন্যান্য জাতি ধর্মের বর্ণের মানুষের প্রতি আমার নিরন্তর শুভেচ্ছা।
প্রিয় ইউনিয়নবাসী, পবিত্র ঈদুল আযহা সমাগত। রাত পোহালেই ঈদ। আর চলতি বছরের ঈদ পালিত হবে এক ভিন্ন আঙ্গিকে, নতুন পরিবেশে। করোনা ভাইরাস জনিত বৈশ্বিক মহামারী পরিস্থিতিতে ঈদের নামাজ পড়তে হবে খোলা জায়গার পরিবর্তে মসজিদে। অনেকে পশু কোরবানি দিলেও ঈদের মতো একটা বড় ধর্মীয় উৎসবে থাকবে না তেমন কোনো উৎসব আয়োজন সামাজিকতা । তারপরও স্বদেশে এবং প্রবাসে অবস্থানরত সকল ভাই বন্ধু আত্মীয় স্বজন শুভাকাঙ্ক্ষীদের ঈদ মোবারক।

প্রিয় ইউনিয়নবাসী, আপনাদের নেক দোয়া আর ভালোবাসা নিয়ে গর্বের হাজীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায়ার পর এটা আমার ৫ম ঈদুল আযহা । যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে চলতি মেয়াদে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচনের আগে আর কোনো ঈদ উদযাপনের সুযোগ নেই । মানে ২০২১ সালের প্রথম দিকে অনুষ্ঠিত হবে ইউনিয়ন পরিষদের কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন-২১।অতএব শেষ ঈদুল আযহার লগ্নে আমি আপনাদের উদ্দ্যেশে দুটি কথা বলতে চাই।



প্রিয় ইউনিয়নবাসী,বিগত ২০১৬ সালের নির্বাচন ছিলো দলীয় প্রতিকের প্রথম ইউপি নির্বাচন। এমন একটি তাৎপর্যপূর্ণ নির্বাচনে ব্যালট পেপারে নিজ নিজ দলের প্রতীক থাকার পরও সেদিকে না তাকিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমার মতো একজন অতি ক্ষুদ্র মানুষকে আপনারা নির্বাচিত করেছিলেন।আপনারা মহান মানুষ বলেই তা সম্ভব হয়েছিলো। কিন্তু আপনারা আমার প্রতি যে অকৃত্রিম ভালোবাসার নিদর্শন রেখেছেন সে তুলনায় আপনাদের প্রত্যাশা পূরণে যা যা করণীয় ছিলো তার সিকি ভাগও আমি করতে পারিনি। কিন্তু একটি জিনিস বুঝতে হবে আমার চেষ্টার কোনো ঘাটতি ছিলো না। এই ইউনিয়নের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আমার অনেক পদক্ষেপ ছিলো আমার দীর্ঘ ২৭ বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের নীতি আদর্শের সাথে সাংঘর্ষিক। যেটা রাজনৈতিক ভাবে আমাকে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এমনকি রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য অনেক মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে। পেছনের দরজা দিয়ে চেয়ারে যাওয়ার জন্য ৩/৪ টি মিথ্যা মামলা করানো হয়েছে । অথচ আমার কর্মকা- ছিলো আপনাদের তথা প্রিয় হাজীপুর ইউনিয়নবাসীর শান্তি আর কল্যাণের জন্য। আপনারা এও জানেন আমিই একমাত্র ব্যক্তি সরকারি দপ্তরের অত্যন্ত লাভজনক পদের চাকুরী আর বিভাগীয় পর্যায়ে সাংবাদিকতা জীবনের সবচেয়ে সম্মানের চেয়ার ছেড়ে শুধু আপনাদের স্নেহ মমতা আর ভালোবাসার মূল্য দিতে গিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছি।

আবার আমি অনেক কিছুই করতে পারিনি ঠিকই কিন্তু এটা বলতে পারবো আমি জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষকে সম্মান দেওয়ার চেষ্টা করছি। ধর্মীয় সংখ্যা গরিষ্ঠ আর সংখ্যা লঘু বলতে আজ আর হাজীপুরে কিছু নাই। হাজীপুরের নাগরিকদের পরিচয় শুধু মানুষ। এমনকি আমি নিজের মতো চলি। কোনো বিশেষ দল বা চক্রের এজেন্ডা বাস্থবায়নে কোনো বিশেষ বাহিনী গঠন করিনি। জনগণকে হয়রানি করে এমন ব্যক্তিদের দ্বারা নিজে পরিচালিত হইনি। শত প্রতিকূলতা আর বহুমুখী ষড়যন্ত্র মাড়িয়ে হাজীপুর ইউনিয়ন এখন জেলার অন্যতম সুপরিচিত একটি ইউনিয়ন। ২০১৮-১৯ সালে গ্রাম আদালতে মামলা শুনানির দিক দিয়ে আমরা প্রথম হয়েছি।২০১৮ সালের ভয়াবহ নদী ভাঙ্গনের ফলে সৃষ্ট বন্যা মোকাবেলা ও ত্রাণ বিতরণ , ২০১৯ সালে কাউকাপন বাজার ও হাসিমপুর গ্রাম এলাকায় মনু নদীর বাধে ভয়াবহ ফাটল ও ভাঙ্গনের সৃষ্টি হলেও যোগাযোগ বিঘ্নিত হওয়া ছাড়া বড় ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে এলাকাবাসীকে আল্লাহর রহমতে রক্ষা করতে পারা কি একেবারে কম ?এমনকি মিডিয়ায় ফলাও প্রচার করাতে পারায় আজ মনু নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণের নিমিত্তে ৯ শ ৯৬ কোটি টাকার প্রকল্পের অনুমোদন হয়েছে। করোনা ভাইরাস জনিত কোভিড -১৯ পরিস্থিতিতে কর্মহীন মানুষের জন্য ইউনিয়নবাসীকে নিয়ে আমার পদক্ষেপ দেশে বিদেশে প্রশংসা কুড়িয়েছে ।

প্রিয় ইউনিয়নবাসী এই ইউনিয়নের নাগরিক হিসেবে হাজীপুর ইউনিয়ন নিয়ে এখন আমরা চাইলে গর্ব করতে পারি প্রাকৃতিক দুর্যোগ তথা বৈশ্বিক মহামারী মোকাবেলায় আমরা অনেক সক্ষম। জেলা সদরসহ যেকোনো এলাকায় গিয়ে এ ইউনিয়নের নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পর তা সহজেই আপনাদের কাছে অনুমেয় হবে।
প্রিয় ইউনিয়নবাসী, আমার আর চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই । ইউনিয়নের সবচেয়ে দূরবর্তী এবং অল্পসংখ্যক ভোটারের এলাকার বাসিন্দা হয়েও আঞ্চলিকতা এবং দলীয় রাজনীতির মতো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে আপনারা আমাকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছেন । এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে যারা ইতোপূর্বে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছেন তারা ভালো করে জানেন এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হওয়া যে কতটা কঠিন। শত ত্যাগের পরও আমি নিজেকে গর্বিত মনে করি এই কারণে যে, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই পদে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে আমি ৬ষ্ঠ ব্যক্তি। আমার এই বিজয়ের জন্য স্বদেশে এবং প্রবাসে থেকে যারা অর্থ শ্রম ঘাম ঝরিয়েছেন তাদের, প্রয়াত এবং জীবিত সকলের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি ।

প্রিয় ইউনিয়নবাসী, আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পারি। আমরা বিভিন্ন ধর্মের অনুসারী হতে পারি। কিন্তু সবচেয়ে বড় পরিচয় আমরা হাজীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। যে ইউনিয়নে ওলি ইবনে ওলি হযরত ইব্রাহীম আলী মুহাদ্দিসে কটারকোনী( রহঃ) ও বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতাদেরই একজন ব্যারিস্টার মুত্তাকিম চৌধুরীসহ অসংখ্য জ্ঞানী গুনী মানুষের জন্ম। বিষয়টি আমাদের চিন্তা করতে হবে। তাই এই ইউনিয়নের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি ধরে রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব।আমি আজ এও বলছি যেহেতু ক্ষমা একটি উত্তম কাজ। অতএব আমার যেকোনো কথা বা কাজে এবং অন্য যেকোনোভাবে যদি কোনো রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি বা অন্য যেকোনো নাগরিক মনে কষ্ট পেয়ে থাকেন তবে করোনা ভাইরাস জনিত বৈশ্বিক এই পরিস্থিতিতে আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ সেটা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আমি অনুরোধ করছি আসুন আমরা মিলে মিশে সুন্দর হাজীপুর ইউনিয়ন গড়ে তুলি। কারণ দল আর ধর্ম যারা যার, হাজীপুর ইউনিয়ন আমাদের সবার।

আমি সকলকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে শুধু পশু কোরবানি নয় আসুন আমাদের মনের সব ধরনের পশুত্বকে জবাই করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বাসযোগ্য সুন্দর হাজীপুর ইউনিয়ন গড়ে তুলি।

আল্লাহ হাফেজ…

আপনাদের প্রিয়/অপ্রিয়
আব্দুল বাছিত বাচ্চু
চেয়ারম্যান, ১০ নং হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদ
কুলাউড়া, মৌলভীবাজার ।

Comments

comments

পড়া হয়েছে 303 বার
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
x