কুলাউড়ায় বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময়

বিশেষ প্রতিনিধি,সংবাদমেইল২৪.কম | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫:১৫ অপরাহ্ণ
অ+ অ-

মঞ্চে অতিথির আসনে বসা শিক্ষক, পুলিশ কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা। তাঁদের সামনে বসা শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা মাদক, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহসহ সামাজিক বিভিন্ন ব্যাধি নিয়ে তাঁদের প্রশ্ন করে। আর তাঁরা এসব প্রশ্নের জবাব দেন।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নে অবস্থিত মাস্টার শরাফত আলী উচ্চবিদ্যালয়ে মাদক, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ বিষয়ে মত বিনিময় সভায় শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন অতিথিরা। শিক্ষার্থীদের টিফিনের টাকায় পরিচালিত ‘লাল-সবুজ উন্নয়ন সংঘ’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এ সভার আয়োজন করে।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের সূত্রে জানা গেছে, বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আকবর আলী সোহাগের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের উপদেষ্ঠা সাংবাদিক শরীফ আহমেদের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন, কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাদেক কাওসার দস্তগীর।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়ারদৌস হাসান, স্থানীয় ইয়াকুব-তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক আফাজুর রহমান চৌধুরী, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আয়েশা খানম, তরুণ সংগঠক মারুফ আহমেদ প্রমুখ।

স্বাগত বক্তব্য দেন, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাওসার আলম।

সভার শুরুতে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আমেনা আক্তার বলে, ‘পরিবারের কেউ মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে তাঁকে কীভাবে তা থেকে ফেরানো যায়?’ অষ্টম শ্রেণির মাজহার তালুকদার বলে, ‘কিশোর গ্যাং নিয়ে নানা কথা শুনি। এটা কী?’ দশম শ্রেণির সাবিহা সুলতানা বলে, ‘বাল্যবিবাহ দিতে অনেক সময় অভিভাবকেরা বয়স বাড়িয়ে জন্মসনদ নিয়ে আসেন। এ ক্ষেত্রে করণীয় কী?’ এ ছাড়া ইভটিজিংয়ের ব্যাপারে কার কাছে অভিযোগ করতে হবে, মুঠোফোনের অপব্যবহার কীভাবে ঠেকানো যায় এ রকম নানা বিষয়েও শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করে।

অতিথিরা এসব প্রশ্নের জবাবে বলেন, মাদকসেবীদের মাদকের কুফল সম্পর্কে বুঝাতে হবে। কিশোর গ্যাং হচ্ছে, কিশোর অপরাধীদের দল। তাদের বয়স ১৪ থেকে ১৮ বছর থাকে। নানা বঞ্চনা থেকে তারা অপরাধী হয়ে উঠে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ সংস্কৃতি তৈরি হয়ে গেছে। কিশোরদের চলাফেরার ব্যাপারে অভিভাবকদের নজর রাখতে হবে। বাল্যবিবাহের ব্যাপারে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রথমে জানাতে হবে। এর পর শিক্ষকেরা তা প্রশাসন ও পুলিশকে জানাবেন। ইভটিজিংয়ের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুঠোফোনের মাধ্যমে নানা অপরাধের সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আজেবাজে কোনো বিষয়ে জড়ানো যাবে না। শিক্ষামূলক কাজে মুঠোফোন ব্যবহার করতে হবে।

প্রধান অতিথি সাদেক কাওসার দস্তগীর শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তোমাদের সামনে সুন্দর জীবন অপেক্ষা করছে। একটি ভুল সিদ্ধান্তে জীবনের সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যেতে পারে। সামাজিক সব ব্যাধিকে ঠেলে সামনের দিকে তোমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’ পরে তিনি মাদক, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহকে ‘না’ বলে শিক্ষার্থীদের শপথবাক্য পাঠ করান।

Comments

comments

পড়া হয়েছে 160 বার
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত