কুলাউড়ায় প্রবাসীদের উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ প্রদান

স্টাফ রিপোর্টার,সংবাদমেইল২৪.কম | ১৫ মে ২০২০ | ৫:০৬ অপরাহ্ণ
অ+ অ-

কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

১৪ মে বৃহস্পতিবার করোনা মহামারীতে লকডাউনের জন্য বিপাকে পড়া টিলাগাঁওয়ের ৬নং ওয়ার্ডের বালিয়া, আশ্রয়গ্রাম, ইছবপুরের নিম্ন ও মধ্য আয়ের অসহায়-কর্মহীন মানুষের মধ্যে এই খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। টিলাগাঁও ইউনিয়নের প্রবাসী কৃতী সন্তান ও স্থানীয় ব্যক্তিদের উদ্যােগ-সহযোগিতায় মানবতার উপহার খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ দেয়া হয় গ্রামের অসহায় ২৪৫ পরিবারকে।



জানা যায়, উপজেলা শহর থেকে দূরবর্তী প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় সরকারি ত্রাণ সহায়তা থেকে বঞ্চিত বালিয়া, আশ্রয়গ্রাম, ইছবপুরের অনেক কর্মহীন পরিবার। তাই দেশের এই করোনাকালে চরম খাদ্য সংকট ও নানা সমস্যায় দিনাতিপাত করছেন এসব পরিবারের সদস্যরা।

এমন পরিস্থিতিতে প্রবাসে থাকা উক্ত গ্রামের কৃতী সন্তানরা এইসব কর্মহীন ও অসহায় মানুষের সাহায্যের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এই উদ্যোগী প্রবাসীরা হলেন মো. তোফায়েল আহমেদ তানভীর, মিসবাউর রহমান এনাম, তায়েফুর রহমান বাবু, রাফিউজ্জামান খান রুহেল, আবুল কালাম চৌধুরী (মনি), খায়রুল আলম রাসেল, প্রদীপ কুমার দে ও আসাদুজ্জামান খান। প্রবাসী ও স্থানীয়দের অর্থায়ন ছাড়াও ত্রাণ বিতরণে সার্বিক সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধান করেন আব্দুল খালিক মাস্টার, খোরশেদ আলম, আব্দুস সালাম চৌধুরী,সামুন আহমেদ, আল আমিন হোসেন, মাপ্পু, তাজুল ইসলাম, মোক্তাদির চৌধুরী প্রমুখ। খাদ্য সহায়তায় ২৪৫ পরিবারের মধ্যে প্রতি পরিবারকে ১২ কেজি চাল ও নগদ এক হাজার টাকা প্রদান করা হয়।

খাদ্য সহায়তা নিতে আসা ব্যক্তিদের ত্রাণের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে কিছুটা ক্ষোভ নিয়ে বলেন, এলাকায় যখন বন্যা হয় ও ভোটের সময় হয় তখন উপজেলার বড় বড় নেতাদের দেখা যায়। বন্যার সময় সামান্য ত্রাণ পাওয়া গেলেও বর্তমান সময়ে করোনার কারণে আমরা গরিব মানুষ গৃহবন্দী হয়ে চরম কষ্টে দিন পার করছি। উপজেলা প্রশাসন ও রাজনীতিবিদদের এই এলাকার প্রতি উদাসিনতার কথা তুলে ধরেন তারা। এবং এই সময়ে এলাকার প্রবাসীদের মহতী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে উক্ত কার্যক্রমের সাথে যারা সম্পৃক্ত তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং এলাকার যে কোন দুর্যোগের সময় প্রবাসীদেরকে এলাকাবাসীর পাশে থাকার জন্য অনুরোধ করেন ।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, উক্ত এলাকায় প্রবাসী ও চাকুরিজীবি থাকলেও বেশির ভাগ মানুষ খেটে খাওয়া ও দিনমজুর। এছাড়া আশ্রয়গ্রাম ও ইছবপুর মনু নদী সংলগ্ন হওয়ার ফলে প্রায় প্রতি বছর নদী ভাঙনে মানুষের ফসল ও ঘরবাড়ি প্রচুর ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

Comments

comments

পড়া হয়েছে 147 বার
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
x