কুলাউড়ায় চোরাকারবারিদের হামলায় ৪ বিজিবি সদস্য আহত:১৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি

স্টাফ রিপোর্টার,সংবাদমেইল২৪.কম | ০৭ নভেম্বর ২০১৯ | ৫:৩৮ অপরাহ্ন
অ+ অ-

কুলাউড়ায় এক চোরাকারবারিকে ধরতে গেলে স্থানীয়দের হামলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র চার সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।

বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ইটারঘাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত বিজিবি সদস্যদের শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বিজিবির ৪৬ ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় বিজিবির সেক্টর কামান্ডার পর্যায়ের উর্ধ্বতন একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শণ ও তদন্ত করেন।



বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৮টার দিকে বিজিবির শরীফপুর ক্যাম্পের ছয় সদস্যের একটি টহল দল ইটারঘাট বাজার এলাকায় টহল দিচ্ছিলো এসময় লোকমান মিয়া (৪২) নামে এক চোরাকারবারিকে দোকানে বসা দেখতে পেয়ে তাকে আটক করে। সে সময় তিনি বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও দস্তা দস্তি শুরু করেন। একপর্যায়ে লোকমানের সহযোগী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সেখানে জড়ো হয়ে তাঁকে আটকের প্রতিবাদ জানায়।

এসময় বিজিবির সদস্যরা বাঁধা দিলে উত্তেজিত লোকজন তাঁদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকেন। এতে বিজিবির চারজন সদস্যের মাথা ফেটে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিজিবি ১৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এরপর লোকমান ও তাঁর সহযোগীরা পালিয়ে যান। পরে শ্রীমঙ্গলের ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর থেকে বিজিবির দুটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তাঁরা আহত সদস্যদের উদ্ধার করে সেখানে নিয়ে যায়। এ দিকে ঘটনার সময় ইটারঘাট বাজারের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন। ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে ফেলেন।

তদন্তকালে উপস্থিত ছিলেন বিজিবি সিলেট সেক্টরের ৪৮ ব্যাটেলিয়নের উপ অধিনায়ক মেজর নাজমুল সাকিব, ৪৬ ব্যাটলিয়ন শ্রীমঙ্গল সেক্টরের সুবেদার আবু জামান, আমতৈল ক্যাম্পের কোম্পানী কামান্ডার আব্দুর রউফ এবং শরীফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুনাব আলী, মো. খলিল মিয়াসহ ইউপি সদস্যগন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ হারুন মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,লোকমান স্থানীয় একটি চা দোকানে বসা ছিলো এসময় বিজিবির সদস্যরা তাকে ধরে নিতে চাইলে উত্তেজিত লোকজন বাঁধা দেয়। এরপর বিজিবি ফাকা গুলি ছুড়লে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠে।

শরীফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুনাব আলী জানান,পরিস্থিতি আপাতত শান্ত আছে।

কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ ইয়ারদৌস হাসান জানান,থানায় এখন কোন মামলা হয়নি। মামলা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজিবির ৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফুল হক মুঠোফোনে জানান,লোকমান এলাকার চিহ্নিত চোরাকারবারি। হামলায় জড়িত অন্যান্যরাও চোরাকারবারের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। লোকমানের বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য চোরাচালানের অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে কুলাউড়া থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

পরিদর্শণ শেষে বিজিবি সিলেট সেক্টরের ৪৮ ব্যাটেলিয়নের উপ অধিনায়ক মেজর নাজমুল সাকিব জানান, এলাকাবাসী যে ঘটনা ঘটিয়েছে তা ঠিক নয়। অপরাধী গ্রেফতারে গ্রামবাসীর সহযোগিতা করা উচিত ছিলো। তবে গ্রামবাসীর বক্তব্য অনুযায়ী উলঙ্গ অবস্থায় যদি বিজিবি লোকমান মিয়াকে নিয়ে আসে সেটাও উচিত হয়নি। তবে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Comments

comments

পড়া হয়েছে 306 বার
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত