ভারত থেকে অবাধে আসছে মাদক দ্রব্য-

কুলাউড়ার সীমান্তবর্তী তিন ইউনিয়নে সক্রীয় পাচারকারীরা

সৈয়দ আশফাক তানভীর ,সংবাদমেইল২৪.কম | ০১ অগাস্ট ২০১৭ | ৯:২১ অপরাহ্ন
অ+ অ-

ছবি: ৪৬-ব্যাটালিয়ন মুরইছড়া বিজিবি কর্তৃক ২৭ জুলাই আটককৃত ভারতীয় মদ।

কুলাউড়া উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা দিয়ে অবাধে আসছে মাদকদ্রব্য। এখন হাত বাড়ালেই মিলছে রবিরবাজার সহ আশপাশের এলাকায় এসব মাদকদ্রব্য। অবৈধ মাদক পাচারকারীরা উপজেলার সীমান্তবর্তী ৩ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম দিয়ে মাদকদ্রব্য চোরাচালানকৃত অবৈধ সামগ্রী যাতায়াতের জন্য নিরাপদ রোড হিসাবে ব্যবহারে সক্রীয় রয়েছে বেশ কিছুদিন যাবৎ। যার প্রতিফলনে দেখা যায় বিগত কয়েক মাসের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক অবৈধ মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য চোরাচালানকৃত মালামাল আটকের ঘটনায়।



নির্ভরযোগ্য সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা যায়, সীমান্তবতী পৃথিমপাশা, কর্মধা ও শরীফপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম দিয়ে বিদেশী মদ, ফেন্সিডিল, ইয়াবা, গাজা, বিড়ি, পাটর্স, পোশাক, মোটর যানের টায়ার-টিউব ইত্যাদি অবাধে আসছে প্রতিনিয়ত।

সূত্র আরো জানায়, কর্মধা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গভীর পাহাড়ী এলাকা ও মনু নদীর অবস্থানগত কারনে এসব এলাকায় যোগাযোগের দূরাবস্থা ও ভৌগলিক কারনে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য কর্তৃক ঠিকমতো ওই সকল এলাকায় গিয়ে অভিযান চালাতে না পারার কারনে পাচারকারীরা সহজে মাদক দ্রব্য অতি সহজে যাতায়াত করে থাকে। চোরাকারবারিরা এসব মাদক দ্রব্য সীমান্ত পার করে রবিরবাজার ও তার আশপাশের এলাকা দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় চালান করে থাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ সকল এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রবিরবাজার ও সমান্তবর্তী সড়ক দিয়ে প্রায় সন্দেহভাজন যানবাহনের দ্রুত চলাফেরা, বিশেষ করে রাতের বেলায়। মাঝে মধ্যে টিলাগাঁও সড়ক হয়ে দক্ষিণ রবিরবাজার দিয়ে, রবিরবাজার বাইপাস (পূর্ব দিকে) দিয়ে কর্মধা মূখী সড়ক হয়ে একটি এম্বুল্যান্স যাওয়া এবং গভীর রাতে আবার হুইসেল বাজিয়ে চলে যাওয়ার বিষয়টি স্থানীয়দের মাঝে সন্দেহ জনক।

রবিরবাজার কয়েকজন ব্যবসায়ী আরো জানান, কিছু মাতাল গভীর রাতে মদ খেয়ে প্রায়ই মাতলামি করে রবিরবাজারে। তাছাড়া রবিরবাজার থেকে হাস-মুরগি, মাছ ভারতে পাচার করছে চুরাকারবারিরা।

উল্লেখ্য, বিগত মাস ছয়েক আগে উত্তর রবিরবাজারের একটি টং দোকান থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক ইয়াবা ও এক ব্যবসায়ীকে আটক করে। পরবর্তীতে পাচারকারী কর্তৃক সিএনজিতে বরই ও ভারতীয় ইলেট্টনিক্স পাটর্স আটক করে।

রমজানের শেষ সপ্তাহের দিকে শরীফপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী একটি বাড়ি থেকে কয়েক লক্ষ টাকার মূল্যের কাপড় আটক করা ছাড়াও সর্বশেষ গত ২৬ জুলাই রাতে ও ২৭ জুলাই ভোরে বিজিবি কর্তৃক পৃথক পৃথক অভিযানে ৭৮ বোতল (রয়েল ষ্টিক) ভারতীয় মদ ও সাইদুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে বিজিবি ৪৬ ব্যাটালিয়ন। এসব আটককৃত মদের বাজার মূল্য প্রায় ১লক্ষ ২০ হাজার টাকা হবে বলে জানা গেছে।

তাছাড়া এ সময় কমলাটিলা এলাকায় বিজিবির অবস্থান টেরপেয়ে মদ ফেলে পালিয়ে যায় পাচারকারীরা। এসব অভিযান থেকে মাদক আটকের ঘটনায় লোকমুখে প্রশ্ন উঠেছে, মাসে যদি দুই একটি অভিযানে অবৈধ মাদকের আটকের ঘটনা ঘটে, তাহলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে প্রায়ই মাদকের অবাধ চোরাচালান রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো তৎপর হতে হবে।

এ বিষয়ে রবিরবাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা আব্বাছ জানান, তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর বাজারের আশপাশ থেকে মদ ও জোয়ার আসর থেকে জোয়াড়িদের আটক করে পুলিশে দিয়েছেন। রবিরবাজারে মাদক নিরসনে তিনি সর্বাত্মাক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

পৃথিমপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নবাব আলী বাকর খান জানান, সীমান্তবর্তী থাকায় এসব এলাকা দিয়ে মাদক বিচরনে সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে মাসিক সভা ও রবিরবাজারে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আলোচনা ও র‌্যালী করেছি। এ জন্য সকলের সহযোহিতাক্রমে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

বিজিবির দত্তগ্রাম ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার জাহাঙ্গীর হোসেন ও মুরইছড়া ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার মো. আব্দুল হাই পৃথক বক্তব্যে সীমান্তে বিজিবি কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে অভিযানকালে ভারতীয় মদ, বিড়ি, গরু, কাপড় ইত্যাদি আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। মাদক চোরাচালান রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সর্তক রয়েছে।

কুলাউড়া থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম মুসা জানান, মাদক ও চোরাচালন প্রতিরোধে পুলিশ জিরো টলারেন্সে রয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

সংবাদমেইল২৪.কম/জেএইচজে

Comments

comments

পড়া হয়েছে 952 বার
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত