কমলগঞ্জে বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষে জলবদ্ধতায় বারান্দায় পাঠদান

জয়নাল আবেদীন,কমলগঞ্জ: | ০৯ এপ্রিল ২০১৭ | ৮:৪২ অপরাহ্ন
অ+ অ-

গত দিন দিনের টানা বৃষ্টিতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের পৌরসভা এলাকায় ভানুগাছ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃষ্টির পর থেকে জলাবদ্ধতায় ভরপুর হয়ে উঠছে। পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যালয়ের পুরাতান দোতলা ভবনের নিচ তলার তিনটি শ্রেণি কক্ষসহ সকল স্থাপনায় পানিতে ভরপুর হয়ে উঠছে। এতে ছোট বড় সকল শিক্ষার্থীরা দুষিত ময়লা জমে থাকা পানি দিয়ে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করছে। শ্রেনী কক্ষে পানি থাকায় শিক্ষার্থীরা পাঠদান করছেন উঁচু ভবনের বারান্দায়।

সরেজমিন বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা ক্লাস শেষে জমে থাকা দুষিত ময়লা পানি দিয়ে বিদ্যালয় থেকে ফিরছে। আর শিশু শ্রেনির শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের উঁচু ভবনের বারান্দায় ক্লাস করছে। ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠান লেখা পড়ার মান ও ফলাফলে উপজেলার মদ্যে অন্যতম। এ বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত এ বছর মোট শিক্ষার্থী ৩০৪জন। একটি দোতলা পুরাতন ভবনের নিচ উপর মিলিয়ে মোট ৬টি শ্রেণি কক্ষ রয়েছে। নতুন ভবনের ২টি শ্রেণি কক্ষে বিদ্যালয়ের একটি অফিস, একটিতে রয়েছে উপজেলার সরকারী বিনা মূল্যে বিতরনের বই।



সম্প্রতি নির্বাচিত ভানুগাছ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাউন্সিলর জাকিয়া সুলতানা (৫ম শ্রেণি) ও কাউন্সিলর ইশরাত জাহান জোনাকী (৫ম শ্রেণি) বলেন, এ এলাকায় পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি দিলেই বিদ্যালয়ে পানি জমে থাকে। গত তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে বিদ্যালয়ে জলাবদ্ধতায় ভরপুর হয়ে উঠছে। পুরাতন দোতলা ভবনের নিচসহ তিনটি শ্রেনি কক্ষে চার দিন ধরে পানি জমে আছে। সাথে বিদ্যালয়ের টয়লেটের সামনসহ মাঠে জমে থাকা পানির সাথে নিমজ্জিত হয়ে একাকার হয়ে গেছে। আগামী ২৩ এপ্রিল থেকে আমাদের পরীক্ষা থাকায় এ অবস্থায় বিদ্যালয়ে আসতে হচ্ছে।

এ বিদ্যালয়ের অভিভাবক সুব্রত দেব রায় বলেন, কমলগঞ্জ পৌরসভা সদরে একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যায় চারদিন ধরে ময়লা পানিতে নিমজ্জিত হয়ে রয়েছে। শিক্ষক শিক্ষার্থী এ ময়লা পানি দিয়ে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়াসহ একটি উঁচু ভবনের বারান্দায় পাঠদান করাচ্ছেন তা দেখার মত সংশ্লিষ্ট সরকারী বিভাগ আছে বলে আমার মনে হচ্ছে না।

ভানুগাছ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যায় প্রধান শিক্ষক ছন্দা বেগম বলেন, বিষয়টি জানিয়ে পানি নিষ্কাশনে ব্যবস্থা গ্রহনে তিনি উপজেলা শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। এখনও কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি।

কমলগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গকুল চন্দ্র দেবনাথ ভানুগাছ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জলাবদ্ধতার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করা হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুর হক বলেন, স্থায়ীভাবে পানি নিষ্কাশনের নালা করার টেন্ডার হয়েছে। এ ব্যবস্থা গ্রহন করলে একানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে না। তিনি সরেজমিন পরিদর্শণ করবেন বলে জানান।

সংবাদমেইল২৪.কম/জেএ/এন আই

Comments

comments

পড়া হয়েছে 459 বার
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত