এ যেন ছবির মতো গ্রাম

লুৎফুর রহমান রাজুঃ | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ২:৩৮ অপরাহ্ন
অ+ অ-

একদিকে সবুজ পাহাড় অন্য দিকে বিশাল হাওড়।অপর দু পাশে এক দিকে বড়ছড়া আর অপর দিকে হুরইছড়া।নয়টি ওয়ার্ডের মধ্যে আমাদের মহলাল হল পাঁচ নং এয়ার্ড যতারিতি ইউনিয়নের ঠিক মধ্যে এর অবস্থান। এরি মধ্যে আমাদের পূর্ব পুরুষেরা যুগের পর যুগ বংশপরম্পরা থেকে সবাই জীবন অতিবাহিত করে আসছেন আমাদের এ গ্রামে। এ যেন ছবির মতো সবুজে পরিবেষ্টিত একটি গ্রাম মহলাল। বরমচাল ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বড়ছড়া খাল, বিল,হাওড় পরিবেষ্টিত মহলাল গ্রামের লোকচরিত্র অত্যন্ত সরল ও স্বচ্ছ। অল্পে তুষ্টি, পরমত সহিষ্ণুতা এবং সরল জীবন-যাপন মহলালের লোকচরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট। তারা ভদ্র, বিনয়ী এবং অতিথি পরায়ণ।

পারস্পরিক সংঘাত জটিলতা এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নীতিতে বিশ্বাসী।এরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সহজ সরল। যুক্তিসংগত সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থাশীল এলাকার জনগণ। জনকল্যাণমূলক যে কোন পদক্ষেপের সাথে একমত। সাম্প্রতিক কালে মহলালের পশ্চিম পাশে কালা মিয়া বাজারের পাশে ফুটবল খেলার মাঠ চওড়াকরণ বাজারে লোক চলাচলের রাস্তা সম্প্রসারণ, গ্রামের বাজার থেকে মান্ধাতার আমলের ঝোপঝাড় পরিবর্তন করে আধুনিক সাটার স্থাপন,শিক্ষার মান উন্নয়ন, সর্বোপরি জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কাঁচা পায়খানা উচ্ছেদসহ স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা ব্যবহারে উদ্যোগী হয়ে তারা তাদের লোকচরিত্রের এক উজ্জল দিককে উম্মোচন করেছেন। তারা সুস্থ সামাজিক চেতনায় বিশ্বাসী। এখনও তারা বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়ে আদালত পর্যন্ত না গিয়ে দায়িত্বশীল এলাকার মুরব্বিদের মাধ্যমে নিজেদের সমস্যা নিরসন করে থাকেন অনেকাংশেই। মহলাল গ্রামে এ সকল চিত্র লক্ষ্যণীয়।এ গ্রামের খাল, মাটি, সবুজ ধানক্ষেত এবং পাশের পাহাড়ী বন,হাওয়ড়ের নির্মল বায়ু মানুষকে যান্ত্রিক কৃত্রিমতা থেকে এখনও দূরে রেখেছে। তাই মহলাল গ্রামের লোকচরিত্র এখনও মোহনীয় এবং সাবলীল।সামাজিক রীতি-নীতিতে মহলাল গ্রামের ঐতিহ্য রয়েছে। সাধারণত অতিথি সেবা এবং বেড়ানোর ক্ষেত্রে মহলাল গ্রামের লোকেরা পাহাড়ী দৃশ্য এবং হাওড় বেষ্টিত তালতলা বেছে নিতেন। কখনও কখনও যে এর ব্যত্যয় হতো না তা নয়। আগেকার সময় শুকনো মৌসুমে নববধূকে বাড়ীতে নেবার ক্ষেত্রে পালকির প্রচলন ছিল।



বিশালদেহী উড়িয়া বেহারাগণ পালকি কাঁধে নিয়ে যেতেন গন্তব্যের দিকে। রাস্তা ঘাটের ফলে এখন আর পালকি প্রচলন নেই বটে।এখানে অতিথি আপ্যায়নে খাবার শেষে চা, পান সুপারি ছিল অত্যাবশ্যকীয়। মহলালের ঐতিহ্য মন্ডিত পুরাতন বাড়িসমূহ,এখানে রয়েছে কয়েকশত বছরের চুনশুরকির বিরাইমুর জামে মসজিদ। প্রভাত বেলায় মক্তবে আরবি শিক্ষার মাধ্যমে দিনের শুরুর প্রচলন এখনও রয়েছে এ গ্রামে। রাতের বেলায় স্বাচ্ছন্দ্য চলাচল করার জন্য আনা হয়েছে রাস্থার উপর ল্যাম্পপোস্ট। নতুন আত্মীয় বেড়াতে এলে বিদায়ের সময় প্রত্যেককে উপঢৌকন স্বরূপ বস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রী প্রদানের রেওয়াজ এখানে ছিল।যা এখনো গ্রামে বিদ্যমান রয়েছে।

প্রতিদিন সকাল বেলা গ্রামের চৌমুহুনিতে দাড়ালে দেখা যায় শিক্ষাদানের জন্য অসংখ্য মানুষ গড়ার কারিগররা তাদের গৌন্তব্যের দিকে প্রতিনিয়ত ছুটে চলেছেন।বিশেষত এ গ্রামে রয়েছে বৃটিশ আমলের নকশাকচিত বরমচাল রেলওয়ে ষ্টেশন, রয়েছে বরমচালের সবছেয়ে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বরমচাল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ ও দৃষ্টি নন্দন শহীদ মিনার। রয়েছে বরমচালের আরেক শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বরমচাল আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,মহলাল লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা এবং বরমচাল রফিনগর ইবতেদায়ি মাদ্রাসা,এখানে আছে হযরত রহমত শাহ্‌ (রাঃ)ও হযরত ক্বারি গফুর শাহ্‌ (রাঃ)এর মাজার শরিফ। রয়েছে সদাই করার জন্য ঐতিহ্যবাহী কালা মিয়া বাজার।উল্লেখ্য যে আমাদের মহলাল গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত আছে বড়ছড়া যাতে রয়েছে দেশের সর্বচ্চ মানের সিলিকা বালু। খেলাধূলার জন্য রয়েছে বরমচালের সবছেয়ে বৃহৎ মাঠ।যা বছরের বিভিন্ন সময় পুরো এলাকাকে একত্রিত করতে বিশেষ ভুমিকা রাখে।

এলাকার জ্ঞান পিপাসু যুব সম্প্রদায়ের আলোর দিশারির জন্য রয়েছে ব্রাক কর্তৃক বরমচাল গণকেন্দ্র পাঠাগার।সবকিছু মিলে এ যেন একের ভেতর সব।যা আর কোথাও খুজে পাওয়া অনেক দুষ্কর।তালতলার এ জায়গাটি আজো অনেক মিস করি।যেখানটাতে কেটেছে আমার মতো অনেকের শৈশবরে আনন্দঘন অনেক মুহুর্ত।তাই বার বার মন ফিরে যেতে চায় শৈশবের সৃতি বিজড়িত এ জায়গায়।

Comments

comments

পড়া হয়েছে 652 বার
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত