কুলাউড়ায় বিজয়ের মাসে

এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের উপর হামলা অপর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে উচ্ছেদের নোটিশ

বিশেষ প্রতিনিধি,সংবাদমেইল২৪.কম | ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৬:৩১ অপরাহ্ণ
অ+ অ-

বিজয়ের মাস শুরুর সাথে সাথে কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সগির আলীর পরিবারের উপর হামলা চালিয়ে ৫ জনকে আহত করেছে।

অপর দিকে হাজিপুর ইউনিয়নে মকবুলুর রহমান ওয়াকফ স্টেইটের নামে মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ মিয়ার পরিবারকে উচ্ছেদের নোটিশ দেয়া হয়েছে। এনিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে।



জানা যায় সোমবার (০২ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের ভাটগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সালামের বাড়িতে রাস্তার জায়গায় বেড়া দেয়া নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে একই গ্রামের বাসিন্দা জবান আলীর ছেলে কুতুব আলী, তৈমুছ আলী, ইদ্রিস আলী ও তাদের চাচা উসমান আলীসহ ২০-২৫ জন মুক্তিযোদ্ধা সগির আলীর পরিবারের সদস্যদের ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়।

এতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সগির আলীর ছোট ভাই আব্দুস সবরের স্ত্রী ছইফা বেগম (৫০), ছেলে ফয়জুল হক (৩১), লিটন আহমদ (২৭), মামাতো ভাই আব্দুল মনাফের স্ত্রী ছয়নু বেগম (৬০) ও ছেলে রাজিব আহমদ (২৫)। বর্তমানে কুলাউড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

খবর পেয়ে কুলাউড়া থানার এসআই কানাই লাল চক্রবর্তী হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান।

এদিকে হাজিপুর ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ মিয়ার পরিবারকে বসত ভিটা থেকে উচ্ছেদের পায়তারায় মকবুলুর রহমান ওয়াকফ স্টেইটের পক্ষ থেকে ৪১২১ দাগের ৭ শতক জমি ছাড়ার নোটিশ দেয়া হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ মিয়া জানান, চলতি বৎসরের মাঝামাঝি দিকে হঠাৎ স্বাধীনতা বিরোধী (এলাকায় পাকিস্তানী বাড়ি বলে পরিচিত) পরিবারের বদরুল আমার মালিকানাধীন ৪১২১ দাগের পাশে বসতবাড়ীর উত্তরের জমি ক্রয় করে।

মহরী জরিপ করে তার ক্রয়কৃত ভূমি বুঝিয়ে দেন। পাশের ৭ শতক পরিমাণ জমি আমার দাগের হওয়ায় সে উক্ত জমি ক্রয় করার ইচ্ছা ব্যক্ত করে। আমার আর জমি না থাকায় জমি বিক্রি করতে রাজী হইনি। পরে সে হঠাৎ একদিন প্রচার করে উক্ত জমি মকবুলুর রহমান ওয়াকফ স্টেইট হতে লিজ নিয়েছে।

হাজীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আয়ুব আলী জানান, মকবুলুর রহমান ওয়াকফ স্টেইটের কার্যক্রম আমার চোখে পড়েনি। এধরনের স্টেইটের কথা আমার জানা নেই। ইতোমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ মিয়াকে উচ্ছেদের চক্রান্তের প্রতিবাদে এলাকায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে।

হাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চু জানান, গত ২২ বছর যাবৎ আমি স্থানীয় রাজনীতির সাথে জড়িত। ২০১৬ সালে অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। ফজলবাগ ওয়াকফ স্টেইট ব্যতিত আর কোন ওয়াকফ ষ্টেইটের কথা শুনিনি কোনদিন।

সম্প্রতি পীরেরবাজারে জমি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ মিয়ার সাথে বদরুল ইসলাম ও তার সহযোগিদের সাথে বিরোধ সৃষ্টি হলে সালিশে বসি। এ সময় বদরুল ও তার সহযোগিরা ১৫০ টাকার নন জুডিসিয়াল স্টাম্পে একটি চুক্তিপত্র প্রদর্শন করে সেখানে দেখা যায় মকবুলুর রহমান ওয়াকফ স্টেইটের মোতাওয়াল্লী আবেদ চৌধুরীর কাছ থেকে লিজ নেয়া হয়েছে।

সালিশে মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ মিয়ার পরিবারের প্রদর্শিত রেকর্ড পত্র পর্যালোচনায় দেখা যায় ১৯৬৯ সালের ২য় মুনসেফী আদালত মৌলভীবাজার এর মিছ কেইস নাম্বার ৫৭/৬৯ ধারা এস টি এক্ট এর ১৪৩ মোতাবেক দায়েরকৃত মামলায় বিজ্ঞ আদালত মকবুলুর রহমান ওয়াকফ স্টেইটের বিরুদ্ধে আব্দুর রহিমসহ ব্যক্তিদের আবেদন মঞ্জুর করেন। এতে মকবুলুর রহমান ওয়াকফ স্টেইটের রেকর্ডপত্র ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়।

এমন কি উক্ত মামলার আদেশের আলোকে কুলাউড়া ভুমি অফিস মকবুলুর রহমান ওয়াকফ স্টেইট নামক রেকর্ড কেটে দিয়ে আব্দুর রহিম ও সহযোগি বিভিন্ন জনের নামে রেকর্ড করেন।

তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন, বিগত ৫০ বছর যে ওয়াকফ স্টেইটের কার্যক্রম নাই, সেটাকে প্রতিষ্ঠা করতে গেলে এলাকায় বিরোধ সৃষ্টি হতেই পারে।

Comments

comments

পড়া হয়েছে 252 বার
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
x