উপজেলা ভূমি অফিসের দোকান কোটা বরাদ্ধ নিয়ে তুঘলকি কান্ড!

একসনা বন্দোবস্ত প্রদানের নামে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি,সংবাদমেইল২৪.কম | ০১ মে ২০১৯ | ৪:২৯ অপরাহ্ন
অ+ অ-

কুলাউড়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) অফিসের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে একসনা বন্দোবস্ত প্রদানের নামে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার রবিরবাজার থেকে প্রায় ৪৫টি দোকান বন্দোবস্ত দেয়ার নামে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে লিজ নেয়ার প্রস্তাব দিয়ে কৌশলে এই টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলে লিজ গ্রহীতরা জানান।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কুলাউড়া উপজেলার রবিরবাজারে প্রায় ৪৫টি দোকান একসনা লাইসেন্স ভিত্তিক বন্দোবস্ত প্রদানের লক্ষ্যে চুক্তিনামা সম্পাদন করা হয়। এক বছরের লিজ ফি বাবত রাষ্ট্রীয় কোষাগারে দোকানকোটা প্রতি মাত্র একশ থেকে দেড়শ টাকা জমা করা হয়। অথচ প্রতিটি দোকান মালিকের কাছ থেকে সর্বনি¤œ ১৫ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করা হয়।



অনুসন্ধানে দেখা যায়, রবিরবাজারের লামাবাজারের পুকুর পাড়ের ৩৭টি দোকান মালিকের কাছ থেকে জনপ্রতি ১৫ হাজার টাকা নেন পৃথিমপাশা ইউনিয়নের তহশিলদার আব্দুল মোত্তাকিম। আর রবিরবাজারের মসজিদের সামনের ৭টি ফলের দোকান থেকে এবং আরও ৪টি দোকান থেকে বড় অংষ্কের টাকা নেন এসিল্যান্ড অফিসের সার্ভেয়ার ফিরোজ আলম।

ক্ষুদ্র এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান- .২৫ একর জায়গার বিপরীতে নগদ ২৫ হাজার টাকা এসিল্যান্ড অফিসের সার্ভেয়ার ফিরোজ আলমের কাছে প্রদান করেন। এসময় তাকে এক বছরের জন্য ১৩০ টাকার রশিদ দেয়া হয়।

বাজারের এক ফল ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন- তার কাছে .২০ একর জমির জন্য এক লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। কিন্তু তিনি ২৫ হাজার টাকা এসিল্যান্ড অফিসের সার্ভেয়ার ফিরোজ আলমের কাছে জমা দেন। তাকে যে রশিদ দেয়া হয়েছে তাতে ১১৫০ টাকা কেটে ১০৫ টাকা লেখা।

লামাবাজার এক হোটেল ব্যবসায়ী জানান, এসি ল্যান্ড বাজারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য চিঠি দেন। উচ্ছেদ না করে অফিসে গিয়ে দেখা করতে বলেন। অফিসে আসার পর দোকানের জায়গাটি লিজ দেয়ার প্রস্তাব করা হয়। তাতে তিনি রাজি হলে এসিল্যান্ড অফিসের সার্ভেয়ার ফিরোজ আলমের কাছে ৪২হাজার টাকার বিনিময়ে লিজ গ্রহণ করেন। কিন্তু চুক্তিপত্রের সাথে প্রাপ্ত রশিদে .২৫ একর জায়গা এক বছরের লিজ ফি মাত্র ১৩০ টাকা উল্লেখ রয়েছে। আরেক হোটেল ব্যবসায়ী জানান- .৩০ একরের বিপরীতে তিনি নগদ ১৫ হাজার টাকা প্রদান করেন। এরপর আরও এক হাজার টাকা দিলে তাকে চুক্তিনামা ও ১৫৬ টাকার রসিদ প্রদান করা হয়। তহশিলদার আব্দুল মোত্তাকিমের কাছে টাকা দিয়েছি।

এক সুপারি ব্যবসায়ী নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন, দোকান লিজ পেতে ১৫ হাজার টাকা তহশিলদারের কাছে দিয়েছি। এক তেল ব্যবসায়ী জানান, দোকান লিজ পেতে তহশিলদার আব্দুল মোত্তাকিমেরর কাছে ১০ হাজার টাকা দিয়েছি। আরও ৫ হাজার টাকা দেয়ার কথা। এসব বিষয়ে চেয়ারম্যান জানেন বলেও তিনি জানান।

পৃথিমপাশা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার আব্দুল মোত্তাকিম জানান, সামান্য কিছু খরচাপাতি নেয়া হয়েছে। যা এল আর ফান্ডে জমা হয়েছে। এর বেশি কিছু জানি না।

পৃথিমপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নবাব আলী বাকর খান মুঠো ফোনে বলেন, ‘শুনেছি টাকা লেনদেন হয়েছে তবে কে কত টাকা দিয়েছে বলতে পারবো না। আর বাজারের বেশ কিছু ব্যবসায়ী একদিন বলেছেন এসিল্যান্ড অফিস থেকে লিজ নিতে হবে। এর বেশি কিছু জানিনা।’

এ বিষয়ে কুলাউড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: সাদিউর রহিম জাদিদ মুঠো ফোনে একসনা বন্দোবন্ত দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে টাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

মৌলভীবাজার জেলা অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুর আলম খান মুঠো ফোনে বলেন-‘অফিসের খরচ দেখিয়ে কেন টাকা নেওয়া হবে। এমন অফিসিয়াল খরচ আমার জানা নেই। তবে আমি বিষয়টি খোজ নিয়ে দেখছি।’

বিষয়টি ভূমি মন্ত্রনালয়ের যুগ্মসচিব প্রদীপ কুমার দাসের নজরে আনলে বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।

Comments

comments

পড়া হয়েছে 210 বার
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত